জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। জানা গেছে, কর্মসূচি পালনের পূর্ব ঘোষণা দেওয়া সত্ত্বেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে না পেরে তারা প্রধান ফটকের সামনে এই কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হন।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করেন। এসময় তারা ‘শিক্ষা, সন্ত্রাস—একসঙ্গে চলে না’, ‘ছাত্রদলের চেহারায় ছাত্রলীগকে দেখা যায়’, ‘সালাউদ্দিন করে কী, খায়-দায়, ঘুমায় নাকি?’, ‘আমার ভাই আহত কেন? প্রশাসন জবাব চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান প্রদান করেন।

বিক্ষোভ চলাকালীন জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ পাঁচ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা; আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৭ একর এলাকায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করা; সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ বাস্তবায়ন করা; ক্যাম্পাসে অছাত্রদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা এবং সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়া।

জাতীয় ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শাহিন মিয়া বলেন, ‘গতকাল ছাত্রদল আমাদের ওপর সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা চালিয়েছে। এতে অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে আমরা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালে পাশের কবি নজরুল সরকারি কলেজের ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং সদরঘাট এলাকার যুবদলের কিছু কর্মী হাসপাতালে প্রবেশ করে জরুরি বিভাগে হামলা চালায়। হাসপাতালে হামলার এমন ঘটনা আমরা আগে ইসরায়েলি বাহিনীর ক্ষেত্রে দেখেছি, এরপর ছাত্রলীগ এবং এখন ছাত্রদলের ক্ষেত্রে দেখলাম। ছাত্রদল যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে চায়, তাহলে ছাত্রলীগের পরিণতির কথা তাদের মনে রাখা উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘হামলার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিচ্ছিল, “এই ক্যাম্পাস ছাত্রদলের।” আমরা তাদের সতর্ক করে বলতে চাই, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এটি সবার।’

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘গতকাল আপনারা দেখেছেন, ছাত্রদল আমাদের ওপর নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এরপর প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তারা ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। গত বছরের ৫ আগস্ট যেমন ক্যাম্পাসের ফটক বন্ধ ছিল, তেমনি আজও ৫ আগস্ট ক্যাম্পাসে তালা ঝুলছে। আমরা গতকালের হামলার প্রেক্ষাপটে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছি। দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য ইসমাইল হোসেন তাসিন বলেন, ‘আমরা ছয়জন প্রতিনিধি দাবি জানাতে অডিটোরিয়ামে যেতে চেয়েছিলাম। তখন প্রক্টরিয়াল বডির উপস্থিতিতে ছাত্রদলের নেতা–কর্মীরা আমাদের বাধা দেয়। গতকাল ছাত্রদলের অছাত্র কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে ছাত্রশিবিরের সভাপতি, জকসুর ভিপি, ছাত্র ফ্রন্টের নেতা ইভানসহ কয়েকজনের ওপর হামলা চালায়।’

উল্লেখ্য, প্রশাসনের নির্দেশে সকাল থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সদস্য মোতায়েন করে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।