কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসায় অবহেলা ও অবৈধভাবে টাকা দাবির অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজনেরা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ভর্তির সময় থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডে শিশুটির মৃত্যু হয়। সে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার জুবায়েরের প্রথম সন্তান।
স্বজনেরা জানান, একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্মের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে নবজাতকটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির পর তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং হাতে ক্যানুলা স্থাপনের চেষ্টা করা হয়।
শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, শয্যার ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ২০০ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে একটি শয্যায় রাখা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্স নিজে স্যালাইন না লাগিয়ে একজন আয়াকে দিয়ে তা লাগিয়েছেন।
স্বজনদের ভাষ্য, শিশুটির জ্বর আসার কথা জানালে চিকিৎসকের পরামর্শে একটি ওষুধ দেওয়া হয়। এর কিছু সময় পর তার শরীর কালচে হয়ে যায় এবং শ্বাসপ্রশ্বাস দ্রুত হতে থাকে। তখন বারবার চিকিৎসককে ডাকা হলেও সময়মতো কেউ আসেননি বলে অভিযোগ করেন তারা।
শিশুটির নানা রবেল বলেন, ‘শয্যা, স্যালাইন ও ক্যানুলার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে এসব সেবা বিনা মূল্যে পাওয়ার কথা। কেন আমাদের টাকা দিতে হবে এবং কেন অনুমোদিত স্বাস্থ্যকর্মীর পরিবর্তে অন্য কাউকে দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হলো, তার তদন্ত চাই।’
শিশুটির বাবা জুবায়ের অভিযোগ করেন, ‘আমার সন্তানের চিকিৎসায় চরম অবহেলা করা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।’
তবে নবজাতক ওয়ার্ডের নার্সিং সুপারভাইজার বলেন, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল এবং সে সায়ানোসিসে আক্রান্ত ছিল। শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ক্যানুলা স্থাপনের সময় একজন নার্সকে আয়া শুধু সহায়তা করেছেন। ওয়ার্ডে তখন মাত্র দুজন নার্স দায়িত্ব পালন করছিলেন। রোগীর চাপ বেশি থাকায় সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
অবৈধভাবে টাকা চাওয়া ও সংকটের সময় চিকিৎসক না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহজাহানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।