শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও চরম দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে উচ্চশিক্ষিত হয়েও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি দুই ভাই-বোন। নিজেদের যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি চাকরির সুযোগ পেতে এবার প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করার আকুতি জানিয়েছেন তারা। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চরপুমদী ইউনিয়নের শ্রীমন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আনিছুর রহমান ও আমেনা আক্তার।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জন্মের সময় আনিছুর ও আমেনা স্বাভাবিকই ছিলেন। তবে আনিছুরের বয়স যখন পাঁচ এবং আমেনার সাত, তখন তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং তারা স্থবির হয়ে পড়েন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও পড়াশোনার প্রতি তাদের অদম্য আগ্রহ ছিল। ২০১৮ সালে কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) সম্পন্ন করেন আনিছুর। অন্যদিকে, বোন আমেনা আক্তার স্নাতক (ডিগ্রি) প্রথম বর্ষ পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও বর্তমানে অর্থাভাবে তা বন্ধ হয়ে গেছে।
স্নাতকোত্তর শেষ করার পর সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রায় তিন থেকে চারশটি পদে আবেদন ও পরীক্ষায় অংশ নিলেও কাঙ্ক্ষিত চাকরি পাননি আনিছুর। তিনি বলেন, "আমার মা চাইতেন আমি যেন চাকরি করে পরিবারের দায়িত্ব নিই। শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাউকে যেন কারও কাছে হাত পাততে না হয়— এটাই ছিল মায়ের স্বপ্ন।"
সন্তানদের প্রতিবন্ধকতাকে বোঝা না ভেবে তাদের মা সবসময় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সন্তানদের কোলে বা কাঁধে করে স্কুলে নিয়ে যেতেন তিনি। তবে ২০২২ সালে মায়ের মৃত্যুতে তাদের জীবনযুদ্ধের পথটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে। বর্তমানে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত বাবা মো. ছিদ্দিক হোসাইন আর আগের মতো ঝালমুড়ি বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে কম্পিউটার রিলেটেড টুকটাক কাজ করে সংসার টানার চেষ্টা করছেন আনিছুর।
বোন আমেনা আক্তার বলেন, "মায়ের অনেক আশা ছিল আমরা সরকারি চাকরি পাব। আমাদের একটাই চাওয়া—আমরা যেন আত্মসম্মান নিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি।"
সন্তানদের এই লড়াই দেখে বাবা ছিদ্দিক হোসাইন বলেন, "আমার ছেলেমেয়ে প্রতিবন্ধী হলেও তারা নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি বিবেচনা করে একটি চাকরির ব্যবস্থা করা হলে তারা জীবিকা চালাতে পারত।"
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে আনিছুর জানান, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মাত্র এক মিনিটের জন্য হলেও দেখা করতে চান। তারা করুণা নয়, বরং যোগ্যতা ও প্রতিবন্ধিতার বিষয়টি বিবেচনা করে একটি কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রত্যাশা করছেন।
এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, ভাই-বোন দুজন তার কাছে এসেছিলেন। সুযোগ তৈরি হলে তিনি তাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করিয়ে দেওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।