বরিশালের বাকেরগঞ্জের ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এক রহস্যজনক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা নাশকতাসহ সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার পর ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এলাকাটি বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত বলে নিশ্চিত করেছে। তদন্তের স্বার্থে ওই স্থান থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে জামাল হাওলাদার বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছেন। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল এখন নিরাপদ রয়েছে।"

তদন্তের পরিধি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, "মলায় যেহেতু আসামিরা অজ্ঞাতনামা, তাই আমরা বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছি। পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ কোনো সুবিধা নিতে চেয়েছে কি না, উগ্রবাদী কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, এমনকি আগস্টের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে কি না সব বিষয়ই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একটি প্রত্যন্ত জেলে অধ্যুষিত গ্রামে কেন এমন ঘটনা ঘটলো সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়।"

বিস্ফোরকের ধরন বিশ্লেষণ করে পুলিশ সুপার জানান, এটি ছিল একটি হাতে তৈরি বোমা। তিনি বলেন, "এটি ছিল একটি হাতে তৈরি বোমা। পটকার বারুদ ও পেট্রোলের সংমিশ্রণে এটি তৈরি করা হয়েছে। বোমাটিতে স্প্লিন্টার ব্যবহার করা হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারত। যে ব্যক্তি বা চক্র বোমাটি তৈরি করেছে তাদের এ বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে বলে আমাদের ধারণা। সব দিক বিবেচনায় তদন্ত চলছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"

এদিকে বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাদের ঢাকায় নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে প্রশাসন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি এবং নাতি ফাহিম গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে এবং পরবর্তীতে ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ সম্পন্ন করে।