দুই দিনের অতিভারি বৃষ্টি এবং উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে লালমনিরহাটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৮ মিটার, যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ১৩ সেন্টিমিটার ওপরে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতে গত কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়েছে। এর সাথে স্থানীয়ভাবে গত দুই দিনের অতিভারি বৃষ্টি যুক্ত হওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত মাসের শেষ দিকেও তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা সৃষ্টি করেছিল, যা একদিন পর পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। তবে মঙ্গলবার ভোর থেকে পুনরায় পানি বাড়তে শুরু করে এবং বিপদসীমার কাছাকাছি চলে আসে। এতে চলতি মৌসুমে তিস্তাপাড়ের মানুষ পঞ্চমবারের মতো বন্যার কবলে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
আশঙ্কার কথা জানিয়ে গোবর্দ্ধন গ্রামের রমিজা খাতুন বলেন, "গত রাত থেকে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ক্রমেই বেড়ে চলেছে তিস্তা নদীর পানি। চরাঞ্চলের বেশ কিছু বাড়িতে পানি উঠেছে। পানি চাপ দেখে মনে হচ্ছে বড় বন্যা হতে পারে। বড় বন্যা হলে দীর্ঘ দিন সংস্কার না করা বাঁধগুলো ভেঙে যেতে পারে। এমন হলে ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। বন্যার সময় নদীপাড়ের মানুষরা আমরা নির্ঘুম রাত বাটাই। চার দিকে পানি আর পানি।"
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টিপাত ও উজানের পানি প্রবাহ অব্যাহত থাকায় ডালিয়া পয়েন্টে পানি বেড়েছে। এর ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা হতে পারে। বর্তমানে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনিল কুমার বলেন, "ভারী বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে বুধবার সকাল থেকে তিস্তা নদীতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। স্বল্প মেয়াদী বন্যা দেখা দিতে পারে।"