শরীয়তপুরের দুটি সংসদীয় আসনে বিএনপির স্থানীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত শুক্রবার শরীয়তপুর-৩ আসনের ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি গ্রামে ও গতকাল শনিবার শরীয়তপুর-২ আসনের সখীপুর চরকুমারিয়া ইউনিয়নে জামায়াতের নারী কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় দুই প্রার্থীর পক্ষে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা কাছে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের সখিপুর থানা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সফিকুর রহমান ও জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেন এবং শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জ একাংশ) আসনে বিএনপির প্রার্থী মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ ও জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ আজাহারুল ইসলাম। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দের পর ২২ জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার শুরু করেন প্রার্থী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা। শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহমুদ হোসেনের পক্ষে গতকাল সখিপুর থানার চরকুমারিয়া এলাকায় যান তাঁর বোন মোর্শেদা হক। এ সময় সখিপুর থানা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সম্রাট মোল্যার নির্দেশে বিএনপির কয়েকজন কর্মী তাঁদের প্রচারণায় বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় আজ রোববার মোর্শেদা হক সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
মোর্শেদা হক বলেন, ‘আমি চরকুমারিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাহের চর মকবুল হোসেন মোল্যাকান্দি এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করি। ওই সময়ে যুবদল নেতা সম্রাট মোল্যার নির্দেশে কয়েকজন আমাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করেন। তাঁরা আমাদের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং নির্বাচনী প্রচারণার সামগ্রী জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। আমাদের পথ একাধিকবার অবরুদ্ধ করেন এবং অনুসরণ করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। এটা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’
অভিযোগের বিষয়ে যুবদল নেতা সম্রাট মোল্যা মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কোনো ব্যক্তিকে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিইনি। আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, যিনি অভিযোগ করেছেন, তিনি গতকাল সেখানে যাননি। তারপরও কেন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন, বুঝতে পারছি না।’
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দেওয়ার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁরা কাজ করছেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে গত শুক্রবার শরীয়তপুর-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কয়েকজন নারী কর্মী ডামুড্যা উপজেলার ধানকাঠি গ্রামে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে যান। তাঁরা একটি বাড়িতে নির্বাচনী প্রচারণা চালালে স্থানীয় যুবদল নেতা কাদের মৃধা ও মনির মৃধার নেতৃত্বে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় নারীদের সঙ্গে অসদাচরণ করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান জামায়াতের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম। পরে বিএনপির প্রার্থী নুরুদ্দিন আহাম্মেদ ফোন করে ঘটনার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন এবং নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান। এ ঘটনায় জামায়াতের প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক ও প্রধান এজেন্ট মুহাম্মদ ইলিয়াছ রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
মুহাম্মদ ইলিয়াছ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নারী কর্মীরা প্রচারণা করতে গেলে বিএনপির কর্মীরা বাধা দেন। আমাদের দুই কর্মীকে মারধর করা হয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে বিএনপির প্রার্থী আমাদের প্রার্থীকে ফোন করেন দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাই আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে আমরা ঘটনাটি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানিয়েছি।’
বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার ও মিডিয়া সেলের প্রধান শহীদুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘জামায়াতের নারী কর্মীরা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের নামে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন, তা নির্বাচনী আচরণবিধির পরিপন্থী। স্থানীয় লোকজন এমন না করার জন্য বললে জামায়াতের কর্মীরা বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। আমাদের প্রার্থী বিষয়টি শুনে জামায়াতের প্রার্থীকে ফোন করেন এবং আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ করেন।’
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডামুড্যা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, জামায়াতের নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার তথ্য এসেছিল। পরে দুই প্রার্থী বিষয়টি মিটিয়ে ফেলেছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি অবহিতকরণ চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেনি। এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য দুই পক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।






