বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসের শাসনামলে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটসহ অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং জনদুর্ভোগ থেকে মানুষের দৃষ্টি সরিয়ে নিতে দেশজুড়ে ছাত্রদল ও যুবদলকে দিয়ে হামলা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম।
মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন তিনি। রাত সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, "বর্তমান সরকারের পাঁচ মাসে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ–সংকট, অর্থনৈতিক অস্থিরতাসহ জনদুর্ভোগ থেকে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতেই দেশজুড়ে ছাত্রদল–যুবদলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসী সক্ষমতা যাচাইয়ের এই অপচেষ্টা তাদের জন্যই বুমেরাং হবে বলে তিনি মনে করেন। দেশের প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্রদল ও যুবদলের ক্যাডারদের মাধ্যমে সুপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণে শতকোটি টাকার উন্নয়নের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সম্পন্ন হলে চাঁদাবাজি করা যাবে না। তবে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করলে চাঁদা আর কমিশনের টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা করা যাবে। সে কারণে ছাত্রদল সেনাবাহিনীর কাছে এই কাজ হস্তান্তরের বিরোধিতা করে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে।"
তিনি জানান, এই হামলায় জকসু নেতাদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, সাংবাদিক, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদল নেতাদের নেতৃত্বে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়, যেখানে সাধারণ রোগীদের ওপরও হামলা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ঢাকা কলেজে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের দোয়া ও আহতদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিকালে ছাত্রদল হামলা চালায় এবং ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলে বহিরাগত ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ছাত্রশিবিরের সভাপতি।
বিনা উসকানিতে ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের ওপর হামলার বিষয়ে নূরুল ইসলাম বলেন, "ভিত্তিহীন গুজবকে হাতিয়ার বানিয়ে শাহবাগে থানার ভেতর ডাকসু নেতাদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে এই হামলার শুরু হয়।"
এই ধারাবাহিক হামলার পেছনে সরকারের উচ্চ মহল থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে এবং প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ক্ষমতার স্থায়িত্ব নিয়ে তিনি সতর্ক করে বলেন, "ক্ষমতার মসনদ খুব পিচ্ছিল। ক্যাম্পাসগুলোকে অস্থিতিশীল করলে ক্ষমতার মসনদে বেশি দিন টিকে থাকা সম্ভব হবে না। প্রধানমন্ত্রীর পতনের জন্য যুবদল–ছাত্রদলই যথেষ্ট হবে।"
হামলার বিচারের দাবিতে বুধবার সকাল ৯টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পর্যন্ত ছাত্র-গণজমায়েত কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
হামলার ঘটনায় মামলা করার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নূরুল ইসলাম বলেন, "এর আগে মামলা করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সে কারণে তাঁরা মামলা করেননি।" তবে তিনি এই ঘটনায় প্রশাসনের তদন্ত দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ, দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান, ছাত্র অধিকার সম্পাদক ও জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলামসহ কমিটির অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে মঙ্গলবার রাত আটটার দিকে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর ফটকে এই হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির।