রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠন করতে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীকে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন শ্রমিক সংগঠনের আন্তর্জাতিক জোট ইন্ডাস্ট্রি অল বাংলাদেশ (আইবিসি)। সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, শ্রম আইন অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নতুন মজুরিকাঠামো চূড়ান্ত করতে হবে, তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

আজ শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রীর কাছে এই আবেদনপত্র জমা দেন আইবিসির সভাপতি কুতুব উদ্দিন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার। বর্তমানে আইবিসির অধীনে ১৬টি শ্রমিক ফেডারেশন পরিচালিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, আগে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রতি পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করা হতো। তবে চলতি বছর সংশোধিত শ্রম আইনে এই সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য সর্বশেষ ন্যূনতম মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে, যার ফলে ন্যূনতম মজুরি বেড়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা হয়। সংশোধিত আইনের হিসেবে, চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই তিন বছর পূর্ণ হবে এবং নতুন মজুরিকাঠামো ঘোষণা করা প্রয়োজন।

আইবিসির চিঠিতে এই বিষয়গুলো উল্লেখ করে বলা হয়েছে, "নতুন ন্যূনতম মজুরি কার্যকরের সময় ঘনিয়ে এসেছে। তবে অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত মজুরি বোর্ড গঠনের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ মজুরি বোর্ড গঠন, সদস্য মনোনয়ন, তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, অংশীজনের মতামত গ্রহণ, গণশুনানি, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সুপারিশ প্রণয়নের মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন হয়। এখনই উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন মজুরি ঘোষণা করা কঠিন হয়ে পড়বে।"

চিঠিতে আরও জানানো হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের পাশাপাশি বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির কারণে পোশাকশ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস এই শিল্পে টেকসই উৎপাদন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে শ্রমিকদের জন্য সময়োপযোগী ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা অপরিহার্য বলে মনে করে আইবিসি।

বিষয়টি নিয়ে মুক্তকণ্ঠকে বাবুল আখতার বলেন, "যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি করতে হবে। সেই বাড়তি মজুরি জানুয়ারি থেকে শ্রমিকেরা পাবেন। এখানে কোনো ব্যত্যয় হলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করতে হবে।"