আসন্ন ছুটিকে কেন্দ্র করে গ্রামের বাড়ি ফেরার তাগিদে মহাসড়কগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল গড়াতেই ঢাকা-আরিচা ও নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে। তবে বাড়ি ফেরার আনন্দ ছাপিয়ে তীব্র ভোগান্তির মুখে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী। বাস সংকট এবং নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে নবীনগর, বাইপাইল, শ্রীপুর ও জিরানি বাসস্ট্যান্ডগুলোতে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকে যাত্রীচাপ বহুগুণ বেড়ে গেছে। কিন্তু ভিড়ের তুলনায় গণপরিবহনের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত অপ্রতুল। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও দূরপাল্লার বাস না পাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্লান্তি ও হতাশা দেখা দেয়। যেসব বাস স্টেশনে পৌঁছাচ্ছে, সেগুলোতে ওঠার জন্য যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্করা এই বিশৃঙ্খলার কারণে সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন।

পরিবহনের স্বল্পতার সুযোগ নিয়ে ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। স্বাভাবিক সময়ে যেখানে ভাড়া ১০০ টাকা, সেখানে বর্তমানে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুই ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা পোশাক শ্রমিক মো. রফিকুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, "ছুটি পেয়ে ভাবছিলাম আরামে বাড়ি যাব। কিন্তু স্ট্যান্ডে এসে দেখি বাস নেই। দু-একটা যা আসছে, সেগুলো বগুড়া পর্যন্ত ৫০০ টাকার জায়গায় ৭০০ টাকা চাচ্ছে। বাধ্য হয়ে এখন খোলা ট্রাকে যাওয়ার কথা ভাবছি।"

একই চিত্র দেখা গেছে বাইপাইল মোড়ে। মানিকগঞ্জগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, "স্বাভাবিক সময়ের ১০০ টাকার ভাড়া আজ ২০০-২৫০ টাকা দাবি করা হচ্ছে। কাউন্টারে টিকিট নেই, আবার লোকাল বাসগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ছুটির আনন্দ শুরুতেই ভেস্তে গেছে।"

ভাড়া বৃদ্ধি ও সংকটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা-আরিচা রুটের বাস চালক আব্দুল মান্নান জানান, গাবতলী ও চন্দ্রা এলাকায় তীব্র যানজটের কারণে গাড়িগুলো সময়মতো টার্মিনালে ফিরতে পারছে না। তিনি বলেন, "গাবতলী ও চন্দ্রা এলাকায় প্রচুর যানজট। গাড়ি হাইওয়েতে আটকে থাকায় সময়মতো টার্মিনালে ফিরতে পারছে না। তাছাড়া আমরা যখন ফিরব, তখন ফাঁকা গাড়ি নিয়ে আসতে হবে। এজন্যই একটু বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে, কোনো জোরজুলুম করা হচ্ছে না।"

মহাসড়কে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে হাইওয়ে পুলিশ তৎপর থাকলেও বিশাল জনস্রোতের তুলনায় তা অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন অনেকে। এ বিষয়ে সাভার হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, "মহাসড়কে যাত্রীদের ব্যাপক চাপ রয়েছে, তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে।"