শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে অদম্য ইচ্ছাশক্তির সামনে বাধা হতে পারে না, তার বাস্তব উদাহরণ নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী নিশাদ আদনান সিনহা। জন্মগত সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও এক হাতেই কি-বোর্ড ও মাউসের মাধ্যমে প্রোগ্রামিং ও ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ঈর্ষণীয় দক্ষতা অর্জন করেছেন তিনি। তার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের আইটি বিশেষজ্ঞ হয়ে দেশের সেবা করা।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের বেলঘর গ্রামের কৃষিজীবী মাসুদ ইবনে কামালের বড় ছেলে সিনহা। বর্তমানে তিনি নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার প্রযুক্তি বিভাগের তৃতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। শৈশব থেকেই নানা সামাজিক ও শারীরিক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বড় হওয়া সিনহার এই দীর্ঘ লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় সাহস ও অনুপ্রেরণা হয়ে পাশে ছিলেন তার মা।
নিজের সংগ্রামের কথা বর্ণনা করে সিনহা বলেন, "শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও পড়ালেখার বিষয়ে আমি কখনও পিছপা হইনি। পড়ালেখার প্রতি মায়ের কঠোর শাসন আর ভালোবাসাই আমাকে আজ এত দূর নিয়ে এসেছে। আমার এই পথচলার সমস্ত কৃতিত্ব আমি মাকেই দিতে চাই।"
ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটারের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল সিনহার। বাবা ও চাচার কম্পিউটার চালনা দেখে তার শেখার আগ্রহ তৈরি হয়। ২০১০ সালে ‘অ্যাংরি বার্ডস’ গেম খেলার মাধ্যমে কম্পিউটারে তার প্রথম অভিজ্ঞতা হয়। এরপর এক হাতের সাহায্যেই টাইপিং, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড এবং মাউস পরিচালনায় পারদর্শী হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে জাভা ও পাইথনসহ বিভিন্ন জটিল প্রোগ্রামিং ভাষা এবং আধুনিক ওয়েব ডেভেলপমেন্টে প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করেছেন তিনি।
ইনস্টিটিউটের প্রাঙ্গণে চলাফেরা বা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার ক্ষেত্রে সহপাঠীরা তাকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করেন। তবে আইটি ও কম্পিউটার বিষয়ক যেকোনো জটিল সমস্যায় সহপাঠীদের মেন্টর হিসেবে সাহায্য করেন খোদ সিনহাই। তার বন্ধুরা মনে করেন, প্রযুক্তিগত দক্ষতার দিক থেকে সিনহা অনেক সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক এগিয়ে।
নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের চিফ ইনস্ট্রাক্টর মিজানুর রহমান এবং খণ্ডকালীন ইনস্ট্রাক্টর আবু হাসান জানান, ব্যবহারিক ক্লাস এবং মেধাভিত্তিক কাজে সিনহার পারফরম্যান্স অত্যন্ত প্রশংসনীয়। প্রথাগত শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে কীভাবে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়, সিনহা তা বাস্তবে দেখিয়ে দিয়েছেন।