জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বাভাবিক বক্তব্য প্রচারে আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কোর্টের অর্ডারে বলা ছিল, উনি যেন বিদ্বেষমূলক কোনো কথা না বলেন।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘সেখানে তাঁকে কিন্তু বক্তব্য দিতে বারণ করা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে, বিদ্বেষমূলক বক্তব্য। যদি উনি স্বাভাবিক কথাবার্তা বলেন, ওটার ওপর তো কোনো নিষেধাজ্ঞা নাই’।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দুই বছর ধরে ভারতের আশ্রয়ে আছেন—এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী রায় (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর হবে। তিনি জানান, আপিল করার সুযোগ থাকলে আপিল নিষ্পত্তি সাপেক্ষে তা হবে। সুযোগ না থাকলে বিষয়টি আরেকভাবে এগোবে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী রায়ের ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয় উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘সেই সময়সীমা পার হয়ে যাওয়ায় তাঁর আপিলের সুযোগ আর নেই।’ তিনি আরও জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারও জামিনের নজির বাংলাদেশে নেই।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে গুম–সংক্রান্ত খসড়া আইন বিষয়ে জানতে চাইলে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, খসড়া আইনে গুমের ঘটনাকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। তিনি জানান, বিচ্ছিন্ন কোনো গুমের ঘটনা স্বতন্ত্র ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তা যদি পদ্ধতিগত ও ব্যাপক আকারে সংঘটিত হয়, তাহলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে বিচার্য হবে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান হত্যা মামলার তদন্ত ও বিচারের অগ্রগতি সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ পর্যন্ত ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে ১০৯টি বাছাই করা হয়েছে, যার মধ্যে সারা দেশের ঘটনাগুলো উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও নরসিংদীর মতো এলাকার ঘটনাগুলো একীভূত তদন্তের আওতায় আনা গেলে সময় সাশ্রয় হবে। চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ের লক্ষ্য হলো আগামী এক বছরের মধ্যে তদন্ত ও বিচার দুটোই শেষ করা।