পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া বিজনেস ম্যানেজমেন্ট (বিএম) ইনস্টিটিউটে এইচএসসি (বিএমটি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীদের দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত বাংলা বিভাগের প্রভাষক ও মূল পরীক্ষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
গত সোমবার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি শ্রেণিকক্ষে কয়েকজন তরুণ এইচএসসির উত্তরপত্র হাতে নিয়ে লেখালেখি করছেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই চার তরুণই প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগের (বিএমটি) পক্ষ থেকে গত ৪ জুলাই বাংলা বিষয়ের ৩৫০টি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রভাষক মো. রিপন হোসেনকে দেওয়া হয়েছিল। আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে এই মূল্যায়ন সম্পন্ন করে বোর্ডে জমা দেওয়ার নির্দেশনা ছিল। অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষক নিজে মূল্যায়ন না করে শিক্ষার্থীদের এই কাজে যুক্ত করেছেন।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহ মানজুর বলেন, "পরীক্ষক নিজেই উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ শেষ করেছেন। পরে সময়ের স্বল্পতার কারণে উত্তরপত্রের মলাটে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সহায়তার জন্য নেওয়া হয়েছিল।" তিনি ভাইরাল ভিডিওটি দেখার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন।
অভিযুক্ত পরীক্ষক মো. রিপন হোসেন দাবি করেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ শেষ হওয়ার পর নম্বরসংক্রান্ত তথ্য পূরণের কাজ চলছিল। ওই সময় তিনি কক্ষের বাইরে গেলে তার কাছে পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থী আগ্রহবশত উত্তরপত্রগুলো হাতে নেয়। ভিডিওটি কে ধারণ করেছে তা তার জানা নেই। তবে তিনি স্বীকার করেছেন যে, দায়িত্ব পালনে তার অসতর্কতা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্রে লিখতে দেখা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। তাদের মতে, উত্তরপত্রের মতো সংবেদনশীল নথি শিক্ষার্থীদের হাতে গেলে মূল্যায়নের নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়। তারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
রাঙ্গাবালী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর জানান, এটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের উত্তরপত্র। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পরীক্ষকই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছেন, তবে কোনো একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তা হাতে নিয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পরপরই সোমবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রভাষক মো. রিপন হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, এইচএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি কারিগরি শিক্ষা বোর্ডকে জানানো হয়েছে।