সিরাজগঞ্জে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পাকশী বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রেলওয়ে পাকশী বিভাগের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশারেফ হোসেন ভূঞা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ নাজিব কায়সার, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) শেখ আসিফ আহমেদ, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) রবিউল ইসলাম এবং বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী আহমেদ ইশতিয়াক জহুর।
ঘটনাটি ঘটে বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে, যখন রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে পৌঁছায়। এসময় হঠাৎ ট্রেনটির একটি বগি লাইনচ্যুত হলে শিকল টেনে গতি থামানো হয়। এতে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রীবাহী ট্রেন আটকা পড়ে। বর্তমানে নীলসাগর এক্সপ্রেস, রংপুর এক্সপ্রেস, একতা এক্সপ্রেস, বুড়িমাড়ি এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি এক্সপ্রেস—এই পাঁচটি ট্রেন বিভিন্ন স্থানে আটকা রয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) শেখ আসিফ আহমেদ বলেন, "বেলা আড়াইটার দিকে উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। কাজ শেষ করতে ঘণ্টা তিনেক সময় লাগবে।"
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের যান্ত্রিক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, "সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগির দুটি চাকা সংযোগ থেকে আলাদা হয়ে গেছে। একটি চাকা খুলে শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশনে লাইনের বাইরে ছিটকে পড়ে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।"
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকাজ শেষ হলেই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। ইতিমধ্যে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।