রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি নীলফামারী জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিদ মাহমুদ প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পাঁচ ঘণ্টার জন্য বিশেষ অনুমতিতে মুক্তি পেয়ে তিনি নীলফামারীতে এসে মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন। নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাকে পুনরায় রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় তার হাতে হাতকড়া পরানো ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহিদ মাহমুদের মা রওশন আরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এই শোক সংবাদ কারাগারে পৌঁছানোর পর মানবিক কারণে পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন জানানো হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার পর তাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নজরদারিতে নিজ এলাকায় এসে মায়ের জানাজায় অংশ নেন শাহিদ মাহমুদ। পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করে তিনি কিছু সময় স্বজনদের সঙ্গে কাটান।

মায়ের স্মৃতিচারণ করে শাহিদ মাহমুদ বলেন, "গত ২৮ জুলাই মা আমার সঙ্গে দেখা করতে যান। তিনি এমনভাবে কথা বলছিলেন যেন জেল ভেঙে আমাকে নিয়ে যাবেন। আমিও মাকে আশ্বাস দিয়ে বলেছিলাম, খুব শিগগিরই বাড়ি ফিরে তোমার হাতের রান্না খাব। মায়ের সঙ্গে সেটাই ছিল আমার শেষ কথা।"

জানাজায় আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান এ বিষয়ে জানান, "মায়ের জানাজায় অংশ নিতে শাহিদ মাহমুদকে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। নীলফামারী শহরজুড়ে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল।"

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দুটি হত্যাসহ পাঁচটি মামলায় আসামি করা হয় যুবলীগ নেতা শাহিদ মাহমুদকে। ২০২৫ সালের ৭ সেপ্টেম্বর রাতে রংপুর নগরীর ধাপ লালকুঠি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।