জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আগামী বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) থেকে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিট মূল্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ টিকিটের জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
আগামীকাল বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণা করে জুলাই যোদ্ধা এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেবেন বলে মন্ত্রী জানান। অনুষ্ঠানে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, গণমানুষের অংশগ্রহণ ও বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে। এছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও থাকবে।
সাংস্কৃতিক পর্বে দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তি পরিবেশনার মাধ্যমে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা, দেশপ্রেম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরা হবে বলে উল্লেখ করা হয়। সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রকল্পে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তে কমিটি গঠন করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নিতাই রায় বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর নিয়ে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, কেউ অভিযোগ করলে তাঁকে অভিযোগের ধরন এবং কীভাবে দুর্নীতি হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। মন্ত্রী বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অনেক দুর্নীতি হয়েছে—এ ধরনের অভিযোগ আইনের ভাষায় ‘ভেগ অ্যান্ড ইনডেফিনিট’ (অস্পষ্ট)। আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ অবশ্যই সুনির্দিষ্ট হতে হবে। একজন অভিযোগকারী থাকতে হবে। অভিযোগ পেলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধনের পর পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।
সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা জনসভায় দেওয়া বক্তব্য আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নয়—এ বিষয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন বা জনসভায় দেওয়া বক্তব্য আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ নয়। আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণের জন্য আইনে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। নিতাই রায় চৌধুরী জানান, মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রয়োজন মনে করলে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করা যেতে পারে। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেবে।
জাদুঘরের জনবল নিয়োগ প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, নিয়োগ মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী করা হবে এবং জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
জুলাই জাদুঘরে কীভাবে যাওয়া যাবে—তা জানান উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, উদ্বোধনের প্রথম দিন শুধু জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। উপদেষ্টা বলেন, এ জাদুঘর নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি। একসঙ্গে বেশি সংখ্যক দর্শনার্থী প্রবেশ করলে জাদুঘরের পক্ষে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্টসংখ্যক দর্শনার্থীর জন্য সময়ভিত্তিক স্লট বরাদ্দ থাকবে। অনলাইনে আবেদন করে যে স্লট পাওয়া যাবে, ওই সময়েই দর্শনার্থীদের জাদুঘরে প্রবেশ করতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘কেউ যদি ৬ আগস্টের জন্য বুকিং করতে চান, ওই দিনের সব স্লট পূর্ণ হয়ে যায়, তাহলে তাঁকে পরবর্তী কোনো দিনের স্লট নিতে হবে। আবেদনকারী আগেই জানতে পারবেন তিনি কোন সময়ের জন্য জাদুঘরে ঢোকার অনুমোদন পেয়েছেন।’