আয়কর রিটার্ন দাখিলের ক্ষেত্রে অনেক করদাতা মনে করেন সব ধরনের আয় একসঙ্গে প্রদর্শন করলেই যথেষ্ট। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। আয়ের সঠিক খাত উল্লেখ না করলে করদাতার জন্য আইনি জটিলতা ও জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
২০২৩ সালের আয়কর আইন অনুযায়ী, করদাতার মোট আয় নির্ধারণের জন্য সাতটি নির্দিষ্ট খাত ভাগ করা হয়েছে। এই খাতগুলো থেকে আয় হলে কর প্রদান করতে হয়। তবে উল্লেখ্য যে, এবার বার্ষিক চার লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর কোনো কর ধার্য করা হয়নি।
আয়কর আইনের আওতায় নির্ধারিত সাতটি খাত হলো:
১. চাকরি থেকে আয়: সরকারি বা বেসরকারি যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তির বেতন, ভাতা, বোনাস এবং ইনসেনটিভসহ যাবতীয় পারিশ্রমিক এই খাতের অন্তর্ভুক্ত।
২. ভাড়া থেকে আয়: বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট, দোকান বা অন্য যেকোনো সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে বছরজুড়ে যে আয় অর্জিত হয়, তা এই খাতে দেখাতে হয়।
৩. কৃষি থেকে আয়: কৃষিজমি, ফসল, ফল, সবজি উৎপাদন কিংবা পশুপালন ও খামারসহ যেকোনো কৃষিকাজ থেকে প্রাপ্ত আয় এই খাতের আওতায় পড়ে।
৪. ব্যবসা থেকে আয়: ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অথবা পেশাগত কার্যক্রম, যেমন— চিকিৎসক, আইনজীবী বা পরামর্শক হিসেবে অর্জিত আয় এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
৫. মূলধনি আয়: মুনাফা, ভাড়া, রয়্যালটি, সুদ অথবা অন্যান্য মূলধনি সম্পদের ব্যবহারের বিনিময়ে প্রাপ্ত আয় এই খাতে প্রদর্শিত হয়।
৬. আর্থিক পরিসম্পদ থেকে আয়: ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা, লভ্যাংশ, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা, ট্রেজারি বন্ড কিংবা সিকিউরিটিজ থেকে প্রাপ্ত আয় এই অংশে উল্লেখ করতে হয়।
৭. অন্যান্য উৎসের আয়: যেসব আয় ওপরের ছয়টি নির্দিষ্ট খাতের কোনোটিতেই পড়ে না, সেগুলোকে অন্যান্য উৎসের আয় হিসেবে দেখাতে হয়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, প্রতিটি আয় খাতের কর নির্ধারণের নিয়ম ভিন্ন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কর অব্যাহতি যেমন দেওয়া হয়, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি করহার নিয়ম থাকতে পারে। ফলে ভুল খাতে আয় দেখালে অতিরিক্ত কর প্রদান, জরিমানা কিংবা কর নির্ধারণসংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই আয়কর ফাইল নিরীক্ষায় পড়ার ঝুঁকি এড়াতে এবং ঝামেলামুক্ত থাকতে সঠিক খাত নির্ধারণ করে রিটার্ন দাখিল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।