বর্ষার বৃষ্টিপাত বৃদ্ধির সাথে সাথে কুমিল্লায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত জুলাই মাসে জেলায় ৪৯৪ জন আক্রান্ত হওয়ার পর আগস্টের প্রথম ৪৮ ঘণ্টাতেই নতুন করে আরও ১১৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে আক্রান্তের হারের দিক থেকে দাউদকান্দি উপজেলা জেলার প্রধান হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ১২ জনই দাউদকান্দি উপজেলার বাসিন্দা। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১৩ জন বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, জুলাই মাসে দাউদকান্দি উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৮২ জন। আগস্টের প্রথম দুই দিনেই সেখানে আরও ২১ জন আক্রান্ত হয়েছেন, যার ফলে জেলার মোট আক্রান্তের একটি বড় অংশ এই উপজেলা থেকে শনাক্ত হচ্ছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার সালমা আক্তার ও তার মেয়ে সামিয়া আক্তার বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তারা জানান, প্রথমে সালমা আক্তার জ্বরে আক্রান্ত হন। কয়েক দিন পর তার মেয়েরও জ্বর দেখা দিলে পরীক্ষা করিয়ে জানা যায়, মা-মেয়ে দুজনই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত।
অন্যদিকে, কুমিল্লা নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানে নাইট শিফটে কর্মরত আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া গত শুক্রবার থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, "বাসার পাশের ড্রেন ও কর্মস্থলে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ থাকতে হতো। এরপরই জ্বরে আক্রান্ত হই। পরীক্ষা করে জানতে পারি ডেঙ্গু হয়েছে।"
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাসে এই হাসপাতালে ২৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। বর্ষা অব্যাহত থাকলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, "গত বছর দাউদকান্দি পৌরসভার সাহাপাড়া, দোনারচর ও সবজিকান্দি এলাকায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছিল। এবারও মূলত ওই এলাকাগুলো ও আশপাশ থেকেই রোগীরা আসছেন। তাই সেখানে নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।"
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মোহাম্মদ শাজাহান বলেন, "দিনদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন রয়েছে। পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে।"
জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ জানান, তিনি দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলার পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, "স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।"