‘শীতের মধ্যে কাজকাম কম পাই। কিন্তু পেটের ক্ষুধা তো শীত বোঝে না। সকাল আর রাত মিল্লা আগুন পোহাই। মানুষের দেওয়া পুরান কাপড়েই আমাগর শীত যায়। পাহাড়ে শীত জোঁকের মতো কামড়াইয়া ধরে। অহন কম্বলডা পাইয়া বিরাট ভালা হইলো।’
নতুন কম্বল হাতে কথাগুলো বলেন ষাটোর্ধ্ব সীতা দিও। তাঁর বাড়ি শেরপুরের নালিতাবাড়ী। মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্টের উদ্যোগে গতকাল শনিবার নালিতাবাড়ীতে সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদ বিশপনগর, তারানি, পানিহাটা এলাকায় ২৫০ জন শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়। ঢাকা ব্যাংকের সহায়তায় শীতার্ত মানুষের হাতে কম্বল তুলে দেওয়ার এই কাজে সহযোগিতা করেন মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা নালিতাবাড়ীর সদস্যরা।
পাহাড়ঘেরা নালিতাবাড়ীর সীমান্ত জনপদে কয়েক দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে ও ভোরে ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল বাতাসে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। কম্বল নিতে আসা ৬৫ বছর বয়সী চামেলী সাংমা বলেন, ‘রাইতের বেলা ঠান্ডা বাতাস ঘরের বেড়া দিয়া ঢোকে। হাত-পাও বরফ অইয়া যায়। মেলা দিন ধইরা একটা কম্বলের আসায় আছিলাম। আজ থাইকা আর কষ্ট করা লাগব না।’
একই এলাকার ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ বিজার কুবি বলেন, ‘এই বয়সে শীত সহ্য করা খুব কঠিন। কাইল রাইতে ঠান্ডার চোটে ঘুমাইবার পারছি না। এই কম্বলডা খুব আরাম দিব।’
লাঠিতে ভর করে কম্বল নিতে এসেছিলেন বিমলা সাংমা (৮২)। তিনি বললেন, ‘বিকেল না হইতেই এই এলাকায় শীত পইড়া যায়। এই কম্বলে অহন রাইতে একটু আরাম কউরা ঘুমাইবার পামু।’
কম্বল বিতরণের সময় মুক্তকণ্ঠের শেরপুর প্রতিনিধি আবদুল মান্নান, নালিতাবাড়ী বন্ধুসভার সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম, সভাপতি অভিজিৎ সাহা, সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু রাসেলসহ বন্ধুসভার অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
শীতার্ত মানুষের সহযোগিতায় আপনিও এগিয়ে আসতে পারেন। সহায়তা পাঠানো যাবে ব্যাংক ও বিকাশের মাধ্যমে। হিসাবের নাম: মুক্তকণ্ঠ ট্রাস্ট/ত্রাণ তহবিল, হিসাব নম্বর: ২০৭ ২০০০০ ১১১৯৪, ঢাকা ব্যাংক লিমিটেড, কারওয়ান বাজার শাখা, ঢাকা। পাশাপাশি বিকাশে সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারেন: ০১৭১৩০৬৭৫৭৬ এই মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট নম্বরে। এ ছাড়া বিকাশ অ্যাপে ডোনেশন অপশনের মাধ্যমেও অনুদান পাঠাতে পারেন।






