চট্টগ্রামের রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. দিদার আলম ও আবছার মিয়া। পুলিশ জানায়, এই দুজন সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। গতকাল রোববার সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত দিদার ও আবছার ‘সন্ত্রাসী’ মোহাম্মদ রায়হানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এর আগে এই মামলার আসামি সন্ত্রাসী ধামা ইলিয়াসকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আজ সোমবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, রাউজানের মাসুদ হত্যার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, "রাউজানের মাসুদ হত্যা মামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া অস্ত্রধারী দিদার ও আবছারকে সীতাকুণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার হয়েছে।" তিনি আরও জানান, দিদারের বিরুদ্ধে ১৩টি ও আবছারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে। মাসুদুর হককে কেন ও কার নির্দেশে হত্যা করা হয়েছে, এ বিষয়ে এসপি বলেন, "বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের স্বার্থে এখনো বলা যাচ্ছে না।"
গত ১৩ জুন বেলা দেড়টার দিকে রাউজানের পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে মাসুদুল হক চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তাঁর বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, মাসুদুল পরবর্তী নির্বাচনে ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পুলিশ ধারণা করছে, কর্ণফুলী নদীর বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জেরে মাসুদুলকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার দুই দিন পর ১৫ জুন নিহতের বড় ভাই পেয়ারুল হক চৌধুরী বাদী হয়ে রাউজান থানায় মামলা করেন। মামলায় বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খানের সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ ইলিয়াস, মোহাম্মদ মোবারক, দিদারুল আলম, মোহাম্মদ ইউসুফসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের মধ্যে মাসুদুল হককে প্রথমে গুলি ছোড়েন ইলিয়াস ও দিদারুল। পরে ইউসুফ, জাহেদ ও আবছার দৌড়ে গিয়ে তাঁকে লক্ষ্য করে আরও কয়েকটি গুলি ছোড়েন। ঘটনাস্থলটি রাউজান-রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মাত্র কয়েক শ গজ দূরে অবস্থিত। হত্যায় অংশ নেওয়া পাঁচজনের মধ্যে একজনের মুখে কালো মুখোশ থাকলেও অন্যদের চেহারা স্পষ্ট সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের কাছে শটগান ছিল।
হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল আরও তিন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান এসপি মাসুদ আলম। তিনি বলেন, "গত ১০ জুলাই হাটহাজারীর মেখল এলাকায় নুরুল আজিম নামের একজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী দিদার আলমকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে একটি কিরিচ ও রামদা উদ্ধার হয়েছে।" এছাড়া ৩০ জুলাই মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ থানায় নাজিম নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার মামলায় মো. বোরহান ও রনি নামের দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি পিস্তল ও ৯টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।