মেডিক্যাল টেস্ট, জার্সি নম্বর নির্ধারণ কিংবা সংবাদ সম্মেলন—সব প্রস্তুতিই হয়তো শেষ হয়ে যেত। কিন্তু ইয়ান দিওমান্দের রিয়াল মাদ্রিদ যাত্রা শুরু হওয়ার আগেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই এজেন্সির মধ্যকার টানাপোড়েন। এই অদৃশ্য লড়াইয়ের কারণে তরুণ উইঙ্গারের দলবদল এখন অনিশ্চিত।
বুন্দেসলিগা ক্লাব আরবি লাইপজিগের ১৯ বছর বয়সী আইভোরিয়ান উইঙ্গার দিওমান্দেকে দলে নিতে প্রায় সব প্রক্রিয়া গুছিয়ে এনেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস ও দেফেনসা সেন্ত্রালর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি অঙ্কের এই চুক্তির জন্য রিয়াল দর–কষাকষি করেছিল র্যাপার জে-জির মালিকানাধীন এজেন্সি রক নেশনের সঙ্গে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও এনদ্রিকের মতো তারকাদের প্রতিনিধিত্ব করে এই এজেন্সি।
তবে সাবেক আইভরি কোস্ট ফুটবলার ম্যাক্স গ্রাদেলের এজেন্সি ম্যাক্সিদেল ম্যানেজমেন্টের দাবি ভিন্ন। তাদের মতে, গত বছর লেগানেস থেকে লাইপজিগে দিওমান্দের দলবদলটি তারা আয়োজন করেছিল। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, লাইপজিগ ছাড়ার আগ পর্যন্ত খেলোয়াড়ের ওপর তাদের অধিকার বহাল থাকার কথা। এই দাবিতে ম্যাক্সিদেল ফিফার কাছে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ দাখিল করেছে।
আইভোরিয়ান সাংবাদিক মালিক ত্রাওরে দেফেনসা সেন্ত্রালকে বলেছেন, পুরো ব্যাপারটি গোপন করায় রক নেশনের প্রতিনিধিদের ওপর ক্ষুব্ধ রিয়াল মাদ্রিদ। এএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াল পুরো বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানত না।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় রক নেশনের প্রেসিডেন্ট মাইকেল ইয়োরমার্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন। স্প্যানিশ প্রতিবেদনগুলোকে ‘ভুয়া খবর’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছেন, দায়িত্বজ্ঞানহীন গণমাধ্যম মনোযোগ কাড়ার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
দুই এজেন্সির এই বিবাদ রিয়াল মাদ্রিদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিফার এজেন্ট-সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিনিধিত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলে তা সরাসরি খেলোয়াড়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভুল এজেন্টকে কমিশন প্রদান করলে ক্লাবের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার ঝুঁকি থাকে। চরম ক্ষেত্রে, বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফিফা দিওমান্দের আন্তর্জাতিক স্থানান্তর সনদ (আইটিসি) প্রক্রিয়াকরণ আটকে দিতে পারে।
তবে ফিফা সাধারণত খেলোয়াড়ের খেলার অধিকারকে অগ্রাধিকার দেয়। ফলে লড়াই চলাকালীন রিয়াল একটি সাময়িক নিবন্ধন অনুমতি পেতে পারে, যাতে দলবদল প্রক্রিয়া পুরোপুরি থমকে না যায়।
বর্তমানে বিষয়টি ফিফার পর্যালোচনায় রয়েছে। ম্যাক্সিদেলের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে ফিফা কর্তৃপক্ষ, আর রিয়াল মাদ্রিদ অপেক্ষা করছে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য। এদিকে ‘অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে অস্ট্রিয়ায় লাইপজিগের প্রাক্–মৌসুম প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দেননি দিওমান্দে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনিও কোনো সুসংবাদের অপেক্ষায় আছেন।