কুষ্টিয়ার অনিক বিশ্বাস (২৭) উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পড়াশোনার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই অপ্রত্যাশিত মৃত্যু হয় তাঁর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে তিনি কফিনবন্দী হয়ে নিজ গ্রামের বাড়ি ফিরেছেন।

নিক বিশ্বাস কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়নের সওড়াতলা গ্রামের কৃষক মানোয়ার বিশ্বাসের ছেলে। তিনি রাশিয়ার চেলিয়াবিনস্কে অবস্থিত সাউথ ইউরাল স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়তেন। প্রায় দেড় মাস আগে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদ থেকে নিচে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন অনিক।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনিকের মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারে শোকের আবহ তৈরি হয়। ১ মাস ১২ দিন পর আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অনিকের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পৌঁছায়। এ সময় পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের আর্তনাদে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনিককে একনজরে দেখতে বাড়িতে শত শত মানুষ ভিড় করেন।

বাদ জোহর স্থানীয় সওড়াতলা জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে তাঁকে দাফন করা হয়। জানাজায় কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আমির হামজা উপস্থিত ছিলেন। আইলচারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল ইসলাম অনিকের দাফন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত অনিকের চাচা আলী হোসেন ফারকী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘অনিক ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও ভদ্র স্বভাবের ছিল। কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে স্নাতক শেষ করে উচ্চশিক্ষার জন্য যখন বিদেশে যায়, তখন পুরো এলাকার মানুষ গর্ব করেছিল। ছেলেটির মা নেই। বাবা আর বড় ভাই আছে। প্রায় আড়াই বছর আগে বৃত্তি (স্কলারশিপ) পেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য রাশিয়ার ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল।’ তিনি জানান, গত ২১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন থেকে পড়ে অনিকের মৃত্যুর খবর আসে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু, সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত নন।

যোগাযোগ করা হলে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে কেউ এখনো জানাননি। তবে তিনি এ ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছেন।