বিদায়ী অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ করতে বাংলাদেশকে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে, যা এযাবৎকালের রেকর্ড বলে জানিয়েছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।
রোববার হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করে ইআরডি জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসলসহ মোট পরিশোধ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারে। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত পরিমাণ ঋণ পরিশোধ করা হয়নি। আগের অর্থবছরে পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪০৯ কোটি ডলার।
ইআরডি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাই–জুন সময়ে ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধে ব্যবহার করেছে বাংলাদেশ। এই সময়ের গড় হিসেবে প্রতি মাসে সাড়ে ৩৭ কোটি ডলারের বেশি ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে। একই সময়ে ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ২৯৫ কোটি ডলার এবং সুদ বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ১৫৪ কোটি ডলার।
তবে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ঠিকই, একই সঙ্গে কমেছে বিদেশি ঋণছাড় ও ঋণের প্রতিশ্রুতি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ প্রতিশ্রুতি ছিল ৮৩২ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে ঋণ ছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ডলার।
এদিকে, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে আছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি দিয়েছে ২০৭ কোটি ডলার। এরপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৯১ কোটি ডলার ছাড় করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তৃতীয় স্থানে থাকা রাশিয়া দিয়েছে ১০৫ কোটি ডলার। তবে ঋণের অর্থ ছাড় করলেও ভারত ও চীন বিদায়ী অর্থবছরে নতুন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
কয়েক বছর ধরেই বিদেশি ঋণ পরিশোধের গতি বেড়েছে। ইআরডি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১১০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছিল। প্রায় ১০ বছর পর ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে ২০১ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পরিমাণটি পৌনে ৩০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বাবদ প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে; অর্থাৎ গত ১৪ বছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধ বেড়ে প্রায় চার গুণের বেশি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে ঋণের চাপ আরও বাড়তে পারে। কারণ, কয়েকটি বড় প্রকল্পের ঋণের সুদ ও আসল পরিশোধ শুরু হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ এবং হজরত শাহজালাল (রা) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ প্রকল্পের ঋণের কিস্তি শুরু হওয়া—যে ক্ষেত্রে জাপানকে এ অর্থ দিতে হবে। পাশাপাশি কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ ও মেট্রোরেল প্রকল্পের ঋণের কিস্তিও শুরু হয়েছে।
ইআরডির কর্মকর্তারা জানান, বড় বড় মেগা প্রকল্পের ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে যাওয়ায় বিদেশি ঋণ পরিশোধের চাপ বাড়ছে।