বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংসদের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘অআকখ’ আয়োজিত সাহিত্য আড্ডা ও বইপড়া উৎসব। শনিবার (১ আগস্ট) বিকাল ৩টায় বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্ণারে এই আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
উক্ত আড্ডায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। পাশাপাশি সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও অতিথিরা মনে করেন, সাহিত্যের মাধ্যমে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাহিত্য পৌঁছে দিতে ‘অআকখ’ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। তাদের মতে, সাহিত্যের মূল লক্ষ্য হলো সম্পর্ক স্থাপন করা। এই ধরনের আয়োজনের ফলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে, যা নিয়মিত পাঠচক্রের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং মানুষের মাঝে সুন্দর সম্পর্ক নবায়নে সহায়তা করবে।
আড্ডার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাহিত্য ভাবনা, তাদের পাঠতালিক এবং প্রতিক্রিয়া। পাঠকেরা বর্তমানে কী পড়ছেন এবং সাহিত্য নিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, তা এই আলোচনায় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, “রুমি আমাদের যে শিক্ষা দেয়, নজরুলও তাই। সাহিত্য আমাদের শুধু মনের কথা বলে না, মনের দরজাও খুলে দেয়।”
ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহি বলেন, “আমাদের ক্লাব চেষ্টা করছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে পাঠচক্র আয়োজনের। এর মধ্য দিয়ে আমরা চিন্তার আদান-প্রদান করতে পারছি।”
বই পড়ার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আলিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষার্থী সাহিত্য পাঠের ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন।
‘অআকখ’-এর সংগঠক শেখ ফাতিমা পাপিয়া জানান, তারা সবাই মিলে সাহিত্য নিয়ে কাজ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
অন্যদিকে, ‘অআকখ’-এর নির্বাহী সাগর মল্লিক বলেন, “পৃথিবী নির্মাণ হয় গল্পের মাধ্যমে, ভালো গল্প দিয়ে আমরা সবাই মিলে ভালো পৃথিবী নির্মাণ করতে চাই। এই যে সবাই মিলে বললাম, এ জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগের থেকে সম্মিলিত উদ্যোগ বেশি প্রয়োজন। এতগুলো সাহিত্য ক্লাব যদি সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করে তবে বড় কিছু করা সম্ভব। সাহিত্যে বিপ্লব হওয়া সম্ভব।”