২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কলেজছাত্র ফয়জুল ইসলামকে (রাজন) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অবস্থানের কারণে তাঁর মরদেহ হাসপাতাল থেকে আনা সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ আজ রোববার মামলার ২৮তম সাক্ষী হিসেবে ভুক্তভোগীর বড় ভাই মো. রাজিব এই জবানবন্দি দিয়েছেন।

গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলায় রাজিব সাক্ষ্য দেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি মিরপুর-১১ নম্বরের একটি প্রিন্ট কারখানায় কর্মরত ছিলেন।

জবানবন্দিতে রাজিব জানান, তিনি দুই ভাই ও এক বোন। তাঁর ছোট ভাই ফয়জুল ইসলাম ঢাকা মডেল ডিগ্রি কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কসমেটিকসের দোকানে কাজ করতেন এবং ১৭ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন।

১৯ জুলাইয়ের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে রাজিব বলেন, ওইদিন প্রিন্ট কারখানায় কাজ শেষে তিনি যখন কেরানীগঞ্জের বাড়িতে ফেরেন, তখন তাঁর মা জানান যে ফয়জুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। দুপুর ১২টার পর তাঁর সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল। সন্ধ্যা ৬টার দিকে এক অপরিচিত নারীর ফোন কল থেকে তিনি জানতে পারেন ফয়জুল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এরপর মিরপুর-৬-এ অবস্থানরত বোন শান্তাকে আজমল হাসপাতালে খোঁজ নিতে বললে রাত ৮টার দিকে ফয়জুলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

হাসপাতাল থেকে লাশ আনার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে রাজিব জবানবন্দিতে বলেন, "আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অবস্থান করায় ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ হাসপাতাল থেকে আনতে পারছিলেন না তাঁরা।"

তিনি আরও জানান, "আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র অবস্থানের কারণে তাঁর ছোট ভাইয়ের গুলিবিদ্ধ লাশ হাসপাতাল থেকে আনা যাচ্ছিল না।" পরবর্তীতে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এক অপরিচিত ব্যক্তি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি কেরানীগঞ্জের বাড়িতে পৌঁছে দেন। তখন ফয়জুলের বুকের ডান পাশে গুলির ছিদ্র দেখা যায়; গুলিটি বুকের সামনে ঢুকে পিঠ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। পরদিন স্থানীয় বাহেরচর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

জবানবন্দিতে রাজিব দাবি করেন, পরবর্তী সময়ে খোঁজ নিয়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের নির্দেশে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা তাঁর ভাইকে হত্যা করেছে। তিনি তাঁর ভাইয়ের হত্যার বিচার দাবি করেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান পরশ ও সাধারণ সম্পাদক নিখিল এবং ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। বর্তমানে সব আসামি পলাতক।

আজ রাজিবের সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া সমাপ্ত হলো। আগামী ৪ আগস্ট থেকে মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু হবে।