হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলায় জামিন পেয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদসহ ১১ জন। আজ রোববার দুপুরে হবিগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন।

গত ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) একটি সমাবেশের আয়োজন করে। ওই সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সারজিস আলমসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, সমাবেশ শেষে তাঁদের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুলাই রাতে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহমেদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং আরও ১০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। আরজিতে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে মারধর করে গুরুতর জখম, চুরি ও ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

আজ দুপুরে আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন ছাত্রদলের ওই ১১ জন নেতা-কর্মী। শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন মঞ্জুর করেন। জামিনপ্রাপ্তদের মধ্যে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ ছাড়াও রয়েছেন বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, পৌর ছাত্রদল নেতা মুজাক্কির হোসেন, ছাত্রদল নেতা এম এইচ শিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমূল হোসেন ও রক্সি ইসলাম।

আসামিপক্ষের আইনজীবী কুতুব উদ্দিন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “আদালত মামলার আরজি পর্যালোচনা করে দেখেছেন, ঘটনার সময় ও বিবরণে নানা অসংগতি আছে। এ কারণে সার্বিক বিষয় বিবেচনা নিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন।”

অন্যদিকে, একই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ৫০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, হামলা, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকন এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলাটিতে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি ৪০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ২৮ জুলাই বিকেলে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদ এলাকায় এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সময় দেশি অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়।