শীতের সকাল। এরই মধ্যে ঠান্ডা উপেক্ষা করে দল বেঁধে বিএনপির নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন সমাবেশস্থলে। তাঁদের অনেকের হাতে রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি, আবার কারও হাতে ধানের শীষ। আজ রোববার সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই চিত্র দেখা যায় চট্টগ্রাম নগরের টাইগারপাস মোড়, সিআরবি ও কদমতলী এলাকায়।

আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের। তাঁর চট্টগ্রামে আগমনকে ঘিরে অনেকটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে চট্টগ্রামের বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে।

গত বৃহস্পতিবার সিলেটে জনসভার মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করেছেন তারেক রহমান। পরদিন শুক্রবার ঢাকায় সমাবেশ করেন তিনি। গতকাল শনিবার রাতে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছান তারেক রহমান। দীর্ঘ ২০ বছর পর তিনি চট্টগ্রামে আসায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে।

সরেজমিন সকাল ৯টার দিকে দেখা যায়, নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠের পশ্চিমাংশে মঞ্চের পাশে নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। মঞ্চে রয়েছেন নগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম, ছাত্রদলের নেতা গাজী সিরাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা। মাঠে দল বেঁধে ঢুকছেন নেতা-কর্মীরা। তাঁদের মুখে ‘তারেক জিয়ার ঘাঁটি, চট্টগ্রামের মাটি’সহ নানা স্লোগান।

সমাবেশে জেলার বোয়ালখালী থেকে এসেছেন বিএনপির কর্মী নাজমুল হোসেন। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সকাল সাতটায় বোয়ালখালী থেকে রওনা হয়েছেন। সাড়ে আটটার দিকে সমাবেশে এসে পৌঁছেছেন। এত সকাল সকাল কেন এসেছেন—এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘প্রিয় নেতাকে (তারেক রহমান) সামনাসামনি মনভরে দেখব। তাই মঞ্চের কাছে বসার জন্য চলে এসেছি। সকালে আসায় মঞ্চের কাছে বসার সুযোগটা পেলাম।’

কর্ণফুলী উপজেলা থেকে এসেছেন আবদুল কাদের। তিনি মুক্তকণ্ঠকে বলেন, তারেক রহমানকে টেলিভিশনে দেখেছেন। তাঁকে সামনাসামনি দেখার সুযোগ হারাতে চাননি। তাই সকাল থেকে এসে বসে আছেন।

এদিকে নগরের অক্সিজেন মোড়, দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, নতুন ব্রিজ, অলংকার মোড়সহ বিভিন্ন মোড়ে মোড়েও দেখা গেছে সমাবেশে যাওয়ার জন্য জড়ো হওয়া নেতা-কর্মীদের ভিড়। কেউ হেঁটে, আবার কেউ গাড়িতে করে স্লোগান দিতে দিতে সমাবেশস্থলের দিকে যাচ্ছেন।

নগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, সমাবেশ সফল করতে নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা আসতে শুরু করেছেন। আশপাশের উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা গতকাল রাতে নগরে এসে গেছেন। তাঁদের আশা, সমাবেশে অন্তত ১০ লাখ মানুষের সমাগম হবে।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (গণমাধ্যম) আমিনুর রশিদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, পলোগ্রাউন্ড মাঠ, আশপাশের এলাকা ও নগরের স্টেডিয়াম এলাকায় পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সমাবেশকে ঘিরে পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তা রয়েছে। সমাবেশস্থলের আশপাশের যানজট এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন রয়েছেন।

বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া সর্বশেষ ২০১২ সালের ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এর ১৪ বছর পর একই মাঠে দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর সন্তান তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।

তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রাম সফরে আসেন ২০০৫ সালের ৬ মে। তখন তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি তাঁকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। ফলে দলের প্রধান হিসেবে এবারই প্রথম চট্টগ্রামে আসছেন তিনি। ২০০৫ সালে তাঁর ওই সফরে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের পক্ষে ভোট চেয়ে আয়োজিত সভায় তিনি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সে হিসাবে দীর্ঘ ২০ বছর পর চট্টগ্রামে বড় কোনো জনসমাবেশে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

এদিকে তারেক রহমান চট্টগ্রামসহ চার জেলায় ছয়টি নির্বাচনী জনসভায় যোগ দেবেন। পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশের পর  বিকেলে তিনি ফেনীতে যাবেন। সেখানে ফেনী পাইলট স্কুল খেলার মাঠে বিকেল চারটায় জনসভায় যোগ দেবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম হাইস্কুল মাঠে আরেকটি জনসভায় তারেক রহমানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। কুমিল্লায় আরও দুটি জনসভা করবেন তিনি।

এর একটি সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে সুয়াগাজী ডিগবাজির মাঠে। অন্যটি সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে দাউদকান্দির কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে। কুমিল্লা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জে এসে একটি জনসভায় যোগ দেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান। এই জনসভা রাত সাড়ে ১১টায় কাঁচপুর বালুর মাঠে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।