কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় পুকুরে পাট জাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের বিরোধের জেরে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তির নাম নুর ইসলাম (৫৫)। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে জিতু নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার নওদা বহলবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নুর ইসলাম ওই গ্রামের মৃত ওহাব মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পুকুরে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে নুর ইসলামের সঙ্গে তার বড় ভাই কালাম মণ্ডলের বিরোধ তৈরি হয়। কালাম মণ্ডল পাট জাগ দিতে নিষেধ করলে নুর ইসলাম সেখান থেকে চলে যান। পরবর্তীতে বিকেলে বিষয়টি মীমাংসার লক্ষ্যে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে একটি সালিস বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
অভিযোগ করা হয়েছে যে, বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই কালাম মণ্ডলের ছেলে রূপলের সঙ্গে নুর ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কালাম মণ্ডল, তার ভাই জিতু ও হেলালসহ কয়েকজন নুর ইসলামের ওপর হামলা চালান। তাকে মারধরের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় কালাম মণ্ডল ও তাঁর ছেলে রূপলও আহত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন জানান, "রাত সাড়ে আটটার দিকে নুর ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাড়ে নয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে।"
নিহতের স্ত্রী আসমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, "তার স্বামীকে ভাসুর জিতু, কালাম, হেলাল ও ভাতিজা রূপল মিলে কুপিয়ে হত্যা করেছেন। বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়।"
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রূপল দাবি করেন, "সালিসের আগেই তার চাচা জিতু এসে হামলা চালিয়েছিলেন।"
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম শহীদ জানান, "পাট জাগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে পুলিশ জিতু নামে একজনকে আটক করেছে। ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে।"