রাঙামাটির বাঘাইছড়ির বটতলী এলাকায় নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘ আড়াই দশক ধরে জনপ্রতিনিধিদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবে সেতুটি নির্মিত হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে প্রায় ১২ হাজার মানুষকে।
বর্তমানে হ্রদের ওপর নির্মিত ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর ভর করে যাতায়াত করছেন স্থানীয়রা। বর্ষাকালে এই সাঁকো ডুবে গেলে ছোট নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হয়, যা অসুস্থ রোগী এবং শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বর্ষার রাতে হ্রদে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাচালং নদীর ওপর সেতু না থাকায় বটতলী এলাকার শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্থানীয় অর্থনীতি মারাত্মকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। এমনকি উপজেলার প্রশাসনিক দপ্তরে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়েই যাতায়াত করতে হয় তাদের।
বটতলী উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মাসুদ রানা বলেন, "আমরা অনেক ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করি। যখন বর্ষা মৌসুম হয়, তখন আর বাসা থেকে স্কুলে যেতে দেয় না ফিরতে দেরি হবে তাই। রাতে অনেক সময় নৌকা ডুবে যায়।"
একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমী আক্তার জানান, "পানি কম থাকলে হেঁটে বা নৌকা দিয়ে পার হওয়া যায়। বৃষ্টির সময় উজান থেকে নেমে আসা শুরু হলে তখন পার পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। তখন আর স্কুলে যাই না।"
স্থানীয় কৃষক মো. নাছিমুল গণি জানান, উপজেলা ও বাজারের সহজ পথ এটি। সড়কপথ থাকলেও সেটি অনেক ঘুরে আসতে হয়, যার ফলে সময় ও অর্থ উভয়ই বেশি ব্যয় হয়। একটি সেতুর জন্য ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে তারা এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
রাঙামাটি বাঘাইছড়ি পৌরসভা ৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ইউসুফ নবী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "প্রতি জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্যরা আমাদের শুধু প্রতিশ্রুতিই দেয়। নির্বাচন শেষে আর কেউ খোঁজ রাখে না। এই পথ দিয়ে পাহাড়ি-বাঙালি হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর হিসেবে এই পথে একটি সেতু নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোড়হাতে অনুরোধ জানাই।"
এ বিষয়ে রাঙামাটি বাঘাইছড়ি নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "সম্প্রতি স্থানীয়দের কাছ থেকে আবেদন পেয়েছি। প্রকল্প গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বাজেট তৈরি হলে এটি পৌরসভা করবে নাকি এলজিইডি করবে তখন নির্ধারণ হবে।"