ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় লুডু খেলা নিয়ে তুচ্ছ এক বিরোধ থেকে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে হামদু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার হরষপুর ইউনিয়নের বাইগদা বন্দেরবাড়ি এলাকায় এই সহিংসতা চলে।

নিহত হামদু মিয়া ওই এলাকারই বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে মুঠোফোনের অ্যাপে লুডু খেলছিলেন আবুল হোসেনের ছেলে ইয়াছিন মিয়া (২৬)। সেই সময় প্রতিবেশী হামদু মিয়ার ছেলে মো. নীরব (১১) খেলাটি দেখতে চাইলে ইয়াছিন তাকে থাপ্পড় মারেন। বিষয়টি জানতে পেরে নীরবের বাবা হামদু মিয়া ইয়াছিনের কাছে গেলে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হামদু মিয়া লাঠি দিয়ে আঘাত করলে ইয়াছিন মাথায় আঘাত পান।

পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গতকালের এই ঘটনার জের ধরে আজ দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। উল্লেখ্য, বাইগদা বন্দেরবাড়ি এলাকায় আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হামদু মিয়া যখন বাসায় নাশতা করছিলেন, তখন আবুল হোসেনের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। আবুল হোসেনের গোষ্ঠীর লিটন মিয়া নামের এক ব্যক্তি এককাইট্টা দিয়ে হামদু মিয়ার বুকে আঘাত করলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এরপর উভয় পক্ষের লোকজন দা, ছুরি, রামদা, এককাইট্টা ও লাঠিসোঁটাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এই সময় চার থেকে পাঁচটি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বেলা আড়াইটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সংঘর্ষে মো. হাসান (৮), লিটন মিয়া (৩৫), এরশাদ (৪০), রেজু বেগম (৩৫), ফারুক মিয়া (৩৩), ইসলাম মিয়া (৩০) সহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। বাকি আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিক এবং বিজয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিজয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, "ছোটদের ঝগড়ায় বড়রা জড়িয়ে পড়েন এবং প্রতিপক্ষের এককাইট্টার আঘাতে ঘটনাস্থলেই হামদু মিয়ার নিহত হন।" তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং পরবর্তী সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।