আর্থিক বিধিভঙ্গের দায়ে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হচ্ছে ইংলিশ জায়ান্ট চেলসিকে। লন্ডনের এই ক্লাবটিকে ১ কোটি পাউন্ড জরিমানা করেছে ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা। তবে আপিল করার পর ছয় পয়েন্ট কাটার শাস্তি থেকে রক্ষা পেয়েছে ক্লাবটি।

ইংলিশ এফএর বিধি ই১.২ মোট ৭৪ বার ভাঙার অভিযোগ ছিল চেলসির বিরুদ্ধে। শুনানির আগেই ক্লাবটি এই অভিযোগগুলো স্বীকার করে নেয়।

২০২২ সালের মে মাসে টড বোয়েলি ও ক্লিয়ারলেক ক্যাপিটালের নেতৃত্বাধীন মালিকপক্ষ চেলসির দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভাব্য বিধিভঙ্গের তথ্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে জানায়। পরবর্তীতে তদন্তে তৃতীয় পক্ষের বিনিয়োগ এবং মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে কাজ করাসহ একাধিক ক্ষেত্রে নিয়ম ভাঙার প্রমাণ পাওয়া যায়।

মামলাটি পর্যালোচনার পর একটি স্বাধীন নিয়ন্ত্রক কমিশন চেলসিকে ১ কোটি পাউন্ড জরিমানার পাশাপাশি ছয় পয়েন্ট কাটার স্থগিত শাস্তি দিয়েছিল। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ক্লাবটি পুনরায় একই ধরনের বিধি ভাঙলে পয়েন্ট কাটার এই শাস্তি কার্যকর হওয়ার ঝুঁকি ছিল।

তবে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে চেলসি। পরবর্তী শুনানিতে স্বাধীন আপিল বোর্ড ক্লাবটির আবেদন মঞ্জুর করায় ছয় পয়েন্ট কাটার স্থগিত শাস্তিটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

পয়েন্ট কাটার শাস্তি থেকে মুক্তি পেলেও ১ কোটি পাউন্ড জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেনি চেলসি। ইংলিশ এফএ জানিয়েছে, জরিমানার পুরো অর্থ ইংল্যান্ডের তৃণমূল ফুটবলের উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হবে।

এছাড়া চেলসির ওপর দুই মৌসুম নতুন খেলোয়াড় নিবন্ধনের একটি স্থগিত নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন করে কোনো বিধিভঙ্গ না করলে সেই শাস্তি কার্যকর হবে না।

এক বিবৃতিতে চেলসি জানিয়েছে, "২০২২ সালে বর্তমান মালিকপক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর তারাই সম্ভাব্য পুরোনো বিধিভঙ্গের বিষয়টি স্বেচ্ছায় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে জানায়।" তদন্তে সহযোগিতার অংশ হিসেবে কয়েক হাজার নথিও জমা দিয়েছে ক্লাবটি।

ঐতিহাসিক আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক শাস্তির মুখে পড়েছে চেলসি। গত মার্চেও প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভাঙার দায়ে ক্লাবটিকে ১ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছিল। একই ঘটনায় মূল দলের জন্য এক বছরের স্থগিত দলবদল নিষেধাজ্ঞা এবং একাডেমির খেলোয়াড় নিবন্ধনে নয় মাসের তাৎক্ষণিক নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়।