যশোরের ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে আমডাঙ্গা খালের কচুরিপানা, শেওলা ও পলি অপসারণে স্বেচ্ছাশ্রমে নেমেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল থেকে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির আহ্বানে শতাধিক মানুষ এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সংগ্রাম কমিটির নেতাদের মতে, আমডাঙ্গা খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। তাদের দাবি, খালটি দ্রুত সংস্কার ও পলি অপসারণ করা গেলে পানি নিষ্কাশন সমস্যার বড় অংশ সমাধান করা সম্ভব হবে।
পরিষ্কার কার্যক্রম চলাকালে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা শিব প্রসাদ বলেন, "আমডাঙ্গা স্লুইসগেটের নিচে প্রায় ছয় ফুট পলি জমে তলদেশ উঁচু হয়ে গেছে। ফলে পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।"
অন্যদিকে, স্লুইসগেটের অপারেটর রাজু জানান, খালের পাড়ের ব্লক ভেঙে ভেতরে পড়ে থাকায় গেট খুলে দিলেও পানি স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারছে না। দ্রুত ওই ব্লকগুলো অপসারণ করা গেলে পানির প্রবাহ বহুগুণ বেড়ে যেত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের বিভিন্ন স্থানে পাড় ধসে পড়েছে এবং বিপুল পরিমাণ গাছপালা, কচুরিপানা ও শেওলায় স্বাভাবিক নাব্যতা হারিয়েছে খালটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, পূর্ববর্তী খননের পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাড় ভেঙে এখন তাদের বসতবাড়িগুলোও হুমকির মুখে পড়েছে।
সংগ্রাম কমিটির নেতারা জানান, বর্তমানে নদীর পানির স্তর জলাবদ্ধ এলাকার চেয়ে প্রায় চার ফুট নিচে। তাই দ্রুত যান্ত্রিক খনন বা ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে পলি অপসারণ করা গেলে জমে থাকা পানি সহজেই নদীতে নেমে যেতে পারবে।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ বলেন, "নদী খননের কাজ হলেও দ্রুত টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) বা জোড়াধার চালু করা না হলে ভবদহের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান কখনোই সম্ভব নয়।"
কমিটির আইনবিষয়ক সম্পাদক অনিল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, আমডাঙ্গা খাল সংস্কারের জন্য সরকারি বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও অজ্ঞাত কারণে এখনো কাজ শুরু হয়নি। তিনি অবিলম্বে খাল সংস্কার করে এই অঞ্চলের মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করার দাবি জানান।
এই স্বেচ্ছাশ্রম কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতা চৈতন্য কুমার পাল, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিকাশ মল্লিক, সাধন রায়, কানু বিশ্বাস, নীলকমল বিশ্বাসসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।