দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে, যার ফলে টানা সাত দিন ধরে ডেঙ্গু আক্রান্তের মৃত্যু হতে থাকল। মৃত ব্যক্তি খুলনার একজন নারী, যার বয়স ২১ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, চলতি বছর এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মোট ৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জুলাই মাসেই প্রাণ হারিয়েছেন ৩৬ জন। এর আগে জুনে ১৩ জন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ২ জন করে এবং মে মাসে একজন মারা যান। অর্থাৎ বছরের প্রথম ছয় মাসের তুলনায় শুধু জুলাই মাসেই দ্বিগুণ রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তির পরিসংখ্যানেও বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি বছরে মোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৩১০ জন। এর মধ্যে জুলাই মাসে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ২০৬ জন, যা আগের ছয় মাসের তুলনায় ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ বা দ্বিগুণের বেশি।
মৃত ৫৪ জনের মধ্যে নারী ৩৩ জন এবং পুরুষ ২১ জন। অন্যদিকে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৫ হাজার ৩১০ জনের মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৪১২ জন এবং নারী ৫ হাজার ৮৯৩ জন। তবে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৯ জন, যার মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৫৪ জন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট জলাধারে এডিস মশার প্রজনন বাড়ে, ফলে জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত প্রকোপ বেশি থাকে। তবে অস্বাভাবিক আবহাওয়া, দীর্ঘ উষ্ণতা এবং দ্রুত নগরায়ণের কারণে ডেঙ্গুর মৌসুমি ধারা পরিবর্তিত হচ্ছে। কীটতত্ত্ববিদেরা সতর্ক করে বলছেন, "আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকবে। সাধারণত এর প্রকোপ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত থাকে। কিন্তু এবার অক্টোবর পর্যন্ত তা চলে যেতে পারে।"
আক্রান্তের আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বাদে চলতি বছর সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা বরিশাল বিভাগে। গত সাত মাসে এই বিভাগে ৩ হাজার ৩১২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এরপরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ (২ হাজার ৬৫১ জন), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (২ হাজার ১২৯ জন), ঢাকা মহানগরের বাইরে (২ হাজার ৫৯ জন), খুলনায় (১ হাজার ৯৪৮ জন), উত্তর সিটিতে (১ হাজার ৫৯৭ জন), ময়মনসিংহে (৬২০ জন), রাজশাহীতে (৫৬৬ জন), রংপুরে (৩৩০ জন) এবং সবচেয়ে কম আক্রান্ত সিলেট বিভাগে (৯৭ জন)।
ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপ (ডেন–১, ডেন–২, ডেন–৩ ও ডেন–৪) রয়েছে। কোনো ব্যক্তি একবার একটি সেরোটাইপে আক্রান্ত হলে অন্য সেরোটাইপে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, চলতি বছর আক্রান্তদের মধ্যে ডেন–৩ সেরোটাইপের প্রাধান্য দেখা গেছে।