জয়পুরহাট পৌর শহরের সাগরপাড়া এলাকায় কিস্তির টাকা নিয়ে পারিবারিক কলহের জেরে ২০ বছর বয়সী যুবক নাইম ইসলাম ইয়ামিনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত বাবাকে পলাতক অবস্থায় পাওয়া না যাওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের সৎ মা বানু খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে সাগরপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে নাইমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নাইমের গ্রামের বাড়ি নীলফামারী জেলায়। তিনি জয়পুরহাট শহরের সাগরপাড়া এলাকায় বাবা ও সৎ মায়ের সঙ্গে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি তিনি কিস্তিতে একটি স্মার্টফোন কেনেন। গত ২৯ জুলাই ওই ফোনের কিস্তির টাকা পরিশোধ করা নিয়ে বাবার সঙ্গে তার তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, একপর্যায়ে লুৎফর রহমান তার ছেলেকে মারধর করেন। পারিবারিক বিরোধের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতের কোনো এক সময় নাইমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, মরদেহটি ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা ঝুলিয়ে অভিযুক্ত বাবা পালিয়ে যান।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এই ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক লুৎফর রহমানকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সৎ মা বানু খাতুনকে থানায় আনা হয়েছে।
জয়পুরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুর আলম সিদ্দিক বলেন, "মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং পলাতক অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।"