বর্ষার শুরুতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবারও বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি। বৃষ্টির পানি জমে বিভিন্ন স্থানে এডিস মশার প্রজনন বৃদ্ধি পাওয়ায় মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। তবে জেলার চারটি পৌরসভার মশক নিধনের বাজেট অত্যন্ত সীমিত হওয়ায় কার্যক্রম পরিচালনায় হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত বছরের অক্টোবরে জেলার চারটি পৌরসভার জন্য মোট ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পায় ৩ লাখ টাকা এবং শিবগঞ্জ, রহনপুর ও নাচোল পৌরসভা পায় ২ লাখ টাকা করে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মশক নিধনের জন্য নতুন কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে গত বছরের বরাদ্দের ওপর নির্ভর করেই কোনো রকমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে; কিছু পৌরসভা নিজস্ব তহবিল থেকেও অর্থ ব্যয় করছে।

পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, বরাদ্দের বড় অংশই ফগার মেশিন, কীটনাশক ও জ্বালানি কিনতে ব্যয় হয়ে গেছে, যার ফলে নিয়মিত ও কার্যকরভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ১৫ জন ডেঙ্গু রোগী এবং বহির্বিভাগে আরও ১ হাজার ৩৯০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। জেলায় ডেঙ্গুতে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬১ জন এবং বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ৩২ জন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

মশার উপদ্রবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার হুমায়ুন দারোগার মোড়ের ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম বলেন, "এখন দিনদুপুরেও মশার কারণে ঘরে থাকা যায় না। অথচ পৌরসভা থেকে নিয়মিত ওষুধ ছিটানো হয় না। আমরা নিয়মিত কর দিচ্ছি, কিন্তু প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছি না।"

জেলা হাসপাতালের সামনে ডেঙ্গু আক্রান্ত এক শিশুর বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, "বাড়ির চারপাশে আমবাগানে বৃষ্টির পানি জমে মশার উপদ্রব বেড়েছে। মশার কামড়ে আমার ছেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। এখন হাসপাতালে থাকতে হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।"

সীমিত বাজেটের কারণে প্রয়োজনীয় মাত্রায় মশক নিধন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষ। শিবগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল বাতেন বলেন, "গত বছরের ২ লাখ টাকার বরাদ্দে ফগার মেশিন, কীটনাশক ও জ্বালানি কিনতেই প্রায় পুরো অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে কোনোভাবে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।"

নাচোল পৌরসভার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, "এত কম বাজেটে পুরো পৌর এলাকায় কার্যকরভাবে মশক নিধন সম্ভব নয়। অর্থের সংকটে আমরা সপ্তাহে এক দিন শনিবার, স্প্রে করতে পারছি। এটি প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।"

চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, "গত বছর জেলা ডেঙ্গুর হটস্পট ছিল। তখন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। এবারও বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে, কিন্তু মশক নিধনের বাজেট প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।"

তিনি আরও জানান, চারটি পৌরসভার মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য শিগগিরই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানানো হবে।