বৃক্ষ সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার বেলছড়ি ইউনিয়নের পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ এবং পিটাছড়া ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক মাহফুজ রাসেল। সম্প্রতি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে তিনি এই জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০১৬ সালে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার থেকে দেশে ফিরে মাহফুজ রাসেল খাগড়াছড়ির পিটাছড়া এলাকায় বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের কাজ শুরু করেন। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে বন উজাড় রোধ এবং বন্যপ্রাণী শিকার বন্ধে তিনি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি তিনি স্থানীয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পাঠাগার প্রতিষ্ঠা করেছেন, যেখানে শিশুদের পাঠদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের প্রভাব সম্পর্কে মাটিরাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জসীম উদ্দিন বলেন, "মাহফুজ রাসেলের উদ্যোগে পিটাছড়া এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আগে যারা বন উজাড় ও বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের অনেকেই এখন বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছেন।"
অন্যদিকে, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার সমীর মল্লিক বলেন, "পিটাছড়া বর্তমানে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি সফল মডেল হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ দেশের অন্যান্য এলাকার জন্যও অনুসরণযোগ্য।"
নিজের এই অর্জন প্রসঙ্গে মাহফুজ রাসেল বলেন, "এই পুরস্কার শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি পিটাছড়ার মানুষ এবং বন-প্রকৃতি সংরক্ষণে কাজ করা সবার সম্মিলিত স্বীকৃতি। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার কারণে পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ অব্যাহত থাকবে।"
বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা বলেন, "স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে মাহফুজ রাসেল যে সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, তা বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। জাতীয় পুরস্কার তার দীর্ঘদিনের কাজের যথাযথ স্বীকৃতি।"