সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) শুধু বাংলাদেশিদের নয়, আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। গণমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের বিপরীতে তিনি জানান, এ সমস্যায় পড়া বাংলাদেশির সংখ্যা ৫ হাজার নয়, বরং এ পর্যন্ত ৬২৬ জন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে তিনি এসব তথ্য জানান। ওই ব্রিফিংয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরও উপস্থিত ছিলেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, “এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের সমস্যা নয়। পাকিস্তান, মিসর, ফিলিপাইন, নেপালসহ আরও কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ভিসাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে।”
ভিসা বাতিলের প্রকৃত সংখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কয়েকটি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশির ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে। কিন্তু আমাদের দূতাবাস এবং ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, আজকের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা পর্যন্ত প্রকৃত সংখ্যা ৬২৬।”
প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৪১৭ জনের বিস্তারিত তথ্য ইতোমধ্যে সংগ্রহ করে ভিসা নবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের তথ্যও পর্যায়ক্রমে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, “আবুধাবি ও দুবাইয়ে বাংলাদেশের মিশন ইতোমধ্যে ইউএই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং আগামী সপ্তাহে আরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা ইতিবাচক ফলাফল প্রত্যাশা করছি।”
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “অনেক শ্রমিক জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করেন, এমনকি বিদেশে কাজের সুযোগ পেতে জমিজমাও বিক্রি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য কোনোভাবে স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করলে তারা আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন। আপনারা অনুগ্রহ করে স্বাগতিক দেশের আইনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন।”
তিনি জানান, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও দূতাবাস যোগাযোগ করছে যাতে বোঝা যায় নিয়োগকর্তার কারণে ভিসা বাতিল হয়েছে কি না। তেমনটি হলে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এছাড়া জাল কাগজপত্র ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে সরকার। এই বিষয়ে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনে আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে ‘প্রবাসী কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩’ সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে জাল কাগজপত্র ব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকে।
প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সংবেদনশীল অভিবাসন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের অনুরোধ জানান তিনি।
আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্রের কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ নিয়েও আলোচনা হয়।
অন্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, মিয়ানমারে কারাদণ্ড শেষ করা ২৭ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ চলছে। আরাকান আর্মির সঙ্গে সমন্বয় জটিল হলেও বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থা কাজ করছে। এছাড়া সম্প্রতি ভারতের চেন্নাই থেকে কয়েকজন বাংলাদেশিকে সফলভাবে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ‘মাইগ্রেশন উইং’ গঠন করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড, লাওস ও কম্বোডিয়াসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধ অভিবাসন রোধে জেলা প্রশাসকদের সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা তৈরির কাজ চলছে। বিশেষ করে পর্যটক ভিসায় গিয়ে চাকরির প্রলোভন ঠেকাতে ভ্রমণকারীদের তথ্য যাচাইয়ে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শামা ওবায়েদ জানান, শ্রম ভিসাসহ অন্যান্য ভিসার আবেদনকারীদের জন্য করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে সরকার শিগগিরই একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করবে।