বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে শিক্ষার্থী আলিফ চৌধুরীর চোখের অবস্থা দেখে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। এনসিপির কর্মসূচিতে হামলার সময় চোখে গুরুতর আঘাত পাওয়ার পর চিকিৎসাধীন রয়েছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরী।
আলিফের কেবিনে দেখা যায়, বাঁ চোখে ব্যান্ডেজ করা হয়েছে। ডান চোখটি খোলা থাকলেও দৃষ্টি স্পষ্ট হচ্ছিল না। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না। হাসপাতালে খোঁজ নিতে গেলে এই প্রতিবেদকের হাত ধরে বললেন, ‘আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এই প্রতিবেদক জানান, কক্ষের বাতি জ্বালানো থাকায় আলিফের অস্বস্তি হচ্ছিল। তিনি আঙুলের ইশারায় বাতি নেভাতে বলেন। পরে বাতি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আলিফের ডান চোখের পাতা আঙুল দিয়ে খুলে দেখতে চেষ্টা করেন। তবে তিনি ভালোভাবে দেখতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি প্রশ্ন করেন এবং নিজেরই উত্তর দেন—‘আমার দৃষ্টিশক্তি কি ফিরে আসবে?’ পরক্ষণেই বলেন, ‘না এলেও সমস্যা নাই।’ পাশাপাশি আঙুলের ইশারায় বোঝান, তিনি ঠিক আছেন।
এ সময় এনসিপির নেত্রী মনিরা শারমিনের সঙ্গে আলিফের সংক্ষিপ্ত কথাও হয়। হাসপাতালের কক্ষে উপস্থিত এনসিপি ও ছাত্রশক্তির নেতাদের উদ্দেশে আলিফ বলেন, ‘আমি কারও ওপর হামলা করতে যাননি। আমি সুস্থ ধারার রাজনীতি চাই। রাজনীতির নামে হানাহানি ও মারামারির অবসান চাই। আমার মতো আর কাউকে যাতে চোখ হারাতে না হয়, সেই প্রত্যাশার কথাও জানাই।’
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে আলিফের বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার হয়। বিকেলে তাঁকে দেখতে যান এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। পরে হাসপাতালের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেন তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির চিকিৎসক সংগঠন ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব ডা. আবদুল আহাদ আলিফের চিকিৎসার অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসকদের মেডিক্যাল বোর্ড বসে। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকালে অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর ভাষ্য, আলিফের বাঁ চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরবে না। ডান চোখেও তিনি ঝাপসা দেখছেন।
আলিফের চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত একজন চিকিৎসক মুক্তকণ্ঠকে বলেছেন, পর্যবেক্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাঁ চোখের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, ‘আলিফের বাঁ চোখে এক্সটেনসিভ ইনজুরি হয়েছে। সেখানে অস্ত্রোপচার হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের পর প্রকৃত অবস্থা বলা যাবে।’
এনসিপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী আলিফের বাবা অসুস্থতার কারণে হাঁটতে পারেন না। তাঁর মা প্রতিবন্ধী। দুই বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। বড় ভাইও পরিবারটির দায়িত্ব নেওয়ার অবস্থায় নেই। পড়াশোনার পাশাপাশি আউটসোর্সিং ও ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ করে পরিবারের ব্যয় বহন করতেন আলিফ।
এদিকে আলিফের চিকিৎসার ব্যয় বহন এবং তাঁকে ও পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়াসহ সরকারের প্রতি তিন দফা দাবি জানিয়েছে এনসিপি। তাদের অন্য দাবিগুলো হলো হবিগঞ্জে হামলায় জড়িত ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা এবং এনসিপিসহ গণতান্ত্রিক বিরোধী দলগুলোকে কথা বলতে দেওয়ার পাশাপাশি এনসিপির জুলাই পদযাত্রাসহ সব কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।