জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেওয়া আটা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কালাই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মাহমুদুন্নবী সরকার ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিনকে গতকাল বুধবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার তাঁদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার আটা বরাদ্দের অনিয়মসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই দিনই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হলেও এখনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। এর মধ্যে গতকাল ওই তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসে বিশেষ ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনী এলাকা আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়। কালাইয়ে প্রতিদিন দুই টন করে আটা ও চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। একজন সুবিধাভোগী ২৭০ টাকায় পাঁচ কেজি আটা ও পাঁচ কেজি চাল কিনতে পারেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন দুই টন আটা হিসেবে বিক্রয়কেন্দ্রে ৪০ বস্তা আটা থাকার কথা থাকলেও রাখা হতো ২০ বস্তা। তাঁদের দাবি, এতে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা পাননি এবং বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এত দিন পর আচ্ছে। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই–ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলেমিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।’ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিন উপজেলার বিশেষ ওএমএসের আটা জয়পুরহাট শহরের সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস থেকে সরবরাহ করা হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন (রোববার থেকে বৃহস্পতিবার) এ কার্যক্রম চলে। বিক্রির আগের দিন মিল থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। উপজেলা সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন দুই টন (৪০ বস্তা) আটা বুঝে নিয়ে প্রাপ্তিস্বীকার পত্রে স্বাক্ষর করেন। গত রোববার ৪০ বস্তা আটা বুঝে নিলেও পরদিন সোমবার বিক্রয়কেন্দ্রে রাখা হয় ২০ বস্তা। সেদিন উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকারের তত্ত্বাবধানে চাল ও আটা বিতরণ করা হয়। বাকি ২০ বস্তা আটা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ ওএমএস কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই একইভাবে কম আটা বিতরণ করা হচ্ছিল বলে দাবি এলাকাবাসীর।

সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলসের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, তিনটি উপজেলায় বরাদ্দ অনুযায়ী সপ্তাহে পাঁচ দিনই দুই টন (৪০ বস্তা) করে আটা সরবরাহ করা হয়েছে।

এদিকে, আজ দুপুরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি।

জানতে চাইলে জেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, মঙ্গলবার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গতকাল ওই তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। পরে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।