খুলনার পাইকগাছায় প্রতিষ্ঠিত খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটির নামকরণ বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের (পি সি রায়) নামে করার দাবি জানিয়েছে স্যার পি সি রায় স্মৃতি সংসদ। একই সঙ্গে বিজ্ঞানীর জন্মভিটা ও স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনা সংরক্ষণ, বসতবাড়ি সংস্কার, জমিসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং রাড়ুলীকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় স্মৃতি সংসদের নেতারা এসব দাবি উত্থাপন করেন।
সভায় স্মৃতি সংসদের সভাপতি ও শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আলহাজ মুহাম্মদ কওসার আলী গাজী বলেন, "আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় শুধু বাংলাদেশের গর্ব নন, তিনি ছিলেন বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও মানবহিতৈষী। তার বিজ্ঞানচর্চা, শিক্ষা বিস্তার এবং মানবকল্যাণে অবদান আজও মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। অথচ জন্মভূমি রাড়ুলীতে তার স্মৃতি ও অবদানকে আরও ব্যাপকভাবে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ রয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জীবন ও কর্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে হলে তার জন্মভূমিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এজন্য খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাইকগাছা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটি বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের নামে করা করা হলে তা হবে তার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবকল্যাণের চেতনা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।"
স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে বিজ্ঞানীর জন্মভিটা ও বসতবাড়ি সংস্কারের পাশাপাশি স্মৃতিবিজড়িত জমি নিয়ে বিদ্যমান বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করে সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া রাড়ুলীতে বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জীবন, গবেষণা ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে একটি আধুনিক মিউজিয়াম, অডিটোরিয়াম ও রেস্ট হাউস নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাদের দাবি, সমন্বিত পর্যটন পরিকল্পনার মাধ্যমে রাড়ুলীকে আধুনিক পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললে শিক্ষার্থী, গবেষক ও পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সভায় বিজ্ঞানীর জীবনী ও অবদান পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়। বক্তারা মনে করেন, একজন বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানীর জীবন ও কর্মকে শুধু স্মরণ না করে শিক্ষা ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা হলে তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হবে।
মতবিনিময় সভায় রাড়ুলী ইউনিয়নের আরও দুটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে ১৮৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত ভুবনমোহিনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় জাতীয়করণ এবং ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আর কে বি কে হরিশ্চন্দ্র ইনস্টিটিউটকে ডিগ্রি কলেজে রূপান্তর ও জাতীয়করণের দাবি জানানো হয়।
উক্ত সভায় উপজেলা প্রকৌশলী শাফিন শোয়েব, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও সাবেক প্যানেল মেয়র এস এম ইমদাদুল হক, সাংবাদিক মো. আব্দুল আজিজ, তানভীর আহমেদসহ স্যার পিসি রায় স্মৃতি সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।