শরীয়তপুর সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার তিন ভাইবোন তাদের অসাধারণ মেধা ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ইউটিউব দেখে ঘরে বসেই তারা মোবাইল অ্যাপস, ওয়েবসাইট এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য তৈরি করছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মেধাবী এই তিন উদ্ভাবক হলেন রাজ্জাক হাওলাদারের সন্তান তাফসির, তানভির ও হাবিবা। এদের মধ্যে তাফসির ও তানভির জমজ এবং হাবিবা তাদের চেয়ে এক বছরের বড়। তিন ভাইবোনই বর্তমানে আংগাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছেন। সম্প্রতি পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় তারা সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছেন।

প্রযুক্তির প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকে তাফসির ও তানভির ইউটিউবের মাধ্যমে কোডিং শিখে হোয়াটসঅ্যাপের আদলে একটি মেসেজিং অ্যাপস তৈরি করেছে। পাশাপাশি তারা সফলভাবে একাধিক ই-কমার্সভিত্তিক ওয়েবসাইট ডিজাইন করেছে। শুধু সফটওয়্যার নয়, হার্ডওয়্যার তৈরিতেও তারা সমান পারদর্শী। তাদের উদ্ভাবিত পণ্যের তালিকায় রয়েছে পানির মোটর, ব্লেন্ডার মেশিন, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, স্পিডবোট এবং রোবট। এছাড়া ঘরের নষ্ট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পণ্য তারা নিজেরাই মেরামত করতে পারে।

তবে এই অসামান্য প্রতিভার বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চরম আর্থিক সংকট। তাফসির ভবিষ্যতে ফ্রিল্যান্সার হতে চায় এবং তানভিরের লক্ষ্য সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা ও উন্নত শিক্ষার সুযোগের অভাবে তাদের স্বপ্নগুলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একটি কম্পিউটারের অভাবে বর্তমানে তাফসির ও তানভিরের অনেক কাজ আটকে রয়েছে।

তাদের বাবা রাজ্জাক হাওলাদার একটি কোম্পানিতে স্বল্প বেতনে কর্মরত। সীমিত আয়ে তিন সন্তানের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের প্রযুক্তিগত চাহিদার কথা চিন্তা করা তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে তাদের মা জান্নাতুল ফেরদাউস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ছোটো থেকেই খেলাধুলার চেয়ে নতুন কিছু তৈরি করতেই ওদের আগ্রহ বেশি। তবে আর্থিক সমস্যার কারণে সেটাকে এগিয়ে নিতে পারছেন না। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে তাদের উদ্ভাবনী প্রতিভা বিকাশের পথ সুগম হতো।"

এই খুদে উদ্ভাবকদের প্রতিভার কথা জানতে পেরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলোরা ইয়াসমিন তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, অর্থের অভাবে যেন এই তিন ভাইবোনের স্বপ্ন থেমে না যায়। তাদের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।