চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মিজানুর রহমান পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, "হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়েছে। শরীরে কোনো আঘাত বা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে–হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।"

তবে এই মৃত্যুর পেছনে ভিন্ন দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। মিজানুর রহমানের শ্যালক উজ্বল হোসেন জানান, "কয়েক দিন ধরে কৈড়াতলী গ্রামের একটি চক্র মিজানুর রহমানের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। পুলিশ তাকে কোনো ধরনের তদন্ত ছাড়াই গ্রেপ্তার করে মানসিক নির্যাতন করেছে। অপবাদ ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে তার মৃত্যু হয়েছে।"

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কৈড়াতলী গ্রামের সাত বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা হয়। ওই মামলায় বৃহস্পতিবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান জানান, "মিজানুর রহমানকে থানায় নেওয়ার পথে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক তাকে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"

তিনি আরও জানান, পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।