রাজশাহীর স্থানীয় মিষ্টির স্বাদ দিয়ে শুরু হয়েছিল বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লের তিন দিনের সফর, আর শেষ হলো আম ও রেশমের মুগ্ধতায়। গত সোমবার সন্ধ্যায় রাজশাহীতে পৌঁছানোর পরপরই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সাহেববাজারের ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী মিষ্টান্ন ভান্ডারে যান তিনি। সেখানে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি ও দইয়ের স্বাদ নিয়ে প্রশংসা করেন রাষ্ট্রদূত। সফর শেষে ঢাকা ফেরার আগে আবারও ওই দোকানে গিয়ে মিষ্টি কেনেন তিনি।
তিন দিনের এই সফরে রাষ্ট্রদূত চলনবিল, নাটোরের উত্তরা গণভবন, রানী ভবানীর রাজবাড়ি, পুঠিয়া রাজবাড়ি ও মন্দির কমপ্লেক্স, বানেশ্বরের আমের হাট, রাজশাহীর রেশমশিল্প, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ও পদ্মার পাড় পরিদর্শন করেন। সফরজুড়ে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা এবং বিভিন্ন স্থানের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখান তিনি।
সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে নাটোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন রাষ্ট্রদূত। চলনবিলে নৌকাভ্রমণের সময় বিস্তীর্ণ জলরাশির দৃশ্য মুঠোফোনে ভিডিও করেন তিনি। পথে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শিশুদের সাঁতার কাটার দৃশ্য তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এরপর উত্তরা গণভবন ও রানী ভবানীর রাজবাড়ির বিভিন্ন স্থাপনার ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চান তিনি। পুঠিয়ার স্থাপত্যশৈলী তাঁকে মুগ্ধ করে। বানেশ্বরের আমের হাটে চাষি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। মৌসুম শেষ হওয়ায় আম কম থাকলেও স্থানীয়রা তাঁকে আগামী মৌসুমে পুনরায় আসার আমন্ত্রণ জানান।
রাজশাহী সরকারি রেশম কারখানায় গুটি থেকে সুতা এবং সুতা থেকে কাপড় তৈরির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন রাষ্ট্রদূত। সেখানে তিনি নিজ হাতে কাপড়ে রং করেন এবং স্মারক হিসেবে একটি রেশমি কাপড় কেনেন। পরবর্তীতে বেশ কিছু বেসরকারি রেশম উৎপাদন ও বিপণনকেন্দ্র পরিদর্শন করেন তিনি।
তৃতীয় দিন বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত। সেখানে তিনি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া শিক্ষার্থী বিনিময়, উচ্চশিক্ষা, জলবায়ু সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা করেন তিনি। এরপর প্যারিস রোড ও ‘সাবাস বাংলাদেশ’ ভাস্কর্য ঘুরে দেখেন তিনি।
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের প্রাচীন ভাস্কর্য, শিলালিপি ও প্রত্ননিদর্শন দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত। সফরের শেষ বিকেলে পদ্মার পাড়ে সময় কাটিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
ঢাকায় ফেরার আগে বিমানবন্দরে এই প্রতিবেদককে রাষ্ট্রদূত বলেন, “তাঁর জন্য আসল বাংলাদেশ দেখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকার বাইরে এসে মানুষের আন্তরিকতা, আতিথেয়তা, ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি, ঐতিহাসিক নিদর্শন, আমের বাজার—এসব দেখে বাংলাদেশের বাস্তব চিত্রকে আরও ভালোভাবে জানা যায়।”
বাংলাদেশে ফ্রান্সের সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সব ধরনের সহযোগিতা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতেই পরিচালিত হয়। প্রত্নতত্ত্বসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আছে। প্রায় ২৫ বছর দুই দেশ একটি যৌথ প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্প পরিচালনা করছে।”