চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ডেভিড ইমনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানাবে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি জানান, উদ্ধার করা অস্ত্রের ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে নতুন মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি ফটিকছড়ি থানায় দায়ের করা পূর্বের একটি অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ডেভিড ইমনকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের এই বিশেষ ও গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এর আগে গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার (২৯ জুলাই) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি এবং বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্য আসামিরা হলেন ঢাকার মতিঝিলের মো. শামীম, রাউজানের মো. মিঠু ওরফে ধামা ইলিয়াছ, ঢাকার শ্যামপুরের আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মো. সাফায়েত হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় সংঘটিত মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যা মামলার তদন্ত করতে গিয়ে গত ২২ জুলাই এজাহারভুক্ত আসামি ধামা ইলিয়াছকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ও অস্ত্রের মজুত সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেন। ধামা ইলিয়াছের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ মোট ২১টি মামলা রয়েছে।
ধামা ইলিয়াছের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় ঝুমঝুমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্ন থানায় খুন, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির অন্তত ১৩টি মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, "গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বসতবাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।"