বিশ্বকাপ ফুটবল আসরে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) নিয়ে রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন এবং ফাইনালের পর মাঠের বিশৃঙ্খলার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিফা। এই ঘটনায় আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক কার্যক্রম শুরু করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের পাঁচ খেলোয়াড় ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জয়ের পর উদযাপনের সময় আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ‘Las Malvinas son Argentinas’ (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা একটি ব্যানার প্রদর্শন করেন। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনার দাবির প্রতীক হিসেবে দেখা হয় এই ব্যানারটিকে। ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৩ নম্বর অনুচ্ছেদের ২(গ) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খেলাধুলার কোনো আসরকে রাজনৈতিক বা অ-ক্রীড়াসংক্রান্ত বার্তা প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এই বিধির লঙ্ঘন হওয়ায় ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ১৯৮২ সালে এই বিরোধের জেরে ৭৪ দিনের এক যুদ্ধে ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যার মধ্যে ৬৪৯ জন ছিলেন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ।

ব্যানার প্রদর্শনের ঘটনায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। তৎকালীন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘বিশ্বকাপ হয়তো আমাদের নয়, কিন্তু ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ অবশ্যই আমাদের।’ অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্কফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে।

এর আগেও একই ধরনের ঘটনার নজির রয়েছে। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের আগে বড় ব্যানার প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল ফিফা।

তবে বর্তমান তদন্ত কেবল ব্যানার প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। ফিফার অভিযোগপত্রে এএফএ-র বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, নির্ধারিত সময়ের পরে ম্যাচ শুরু, ম্যাচ ও নিরাপত্তাবিষয়ক প্রোটোকল লঙ্ঘন, দল ও সমর্থকদের মাধ্যমে অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং বিভিন্ন ম্যাচে দর্শকদের বস্তু নিক্ষেপের অভিযোগও আনা হয়েছে।

পাশাপাশি, স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারের পর নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনাটিও তদন্ত করা হচ্ছে। স্পেনের খেলোয়াড়দের শিরোপা উদ্‌যাপনের সময় দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বিরুদ্ধে ফিফার শৃঙ্খলা বিধির ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদের ১(আই) ধারায় তিনটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনার বিরুদ্ধে দুটি হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার একটি সম্পন্ন হামলা এবং অন্যটি হামলার চেষ্টা; এছাড়া তার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ রয়েছে। সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালার বিরুদ্ধে একটি হামলার অভিযোগ এবং বদলি বেঞ্চে থাকা থিয়াগো আলমাদার বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের মিডফিল্ডার গাভির বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ এনেছে ফিফা।

ফিফা জানিয়েছে, শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বক্তব্য পর্যালোচনার পর ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।