কিশোরগঞ্জের ইটনায় হাওরের চরে আটকে থাকা একটি সিমেন্টবোঝাই বাল্কহেডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল আশানুরূপ নগদ টাকা না পেয়ে বাল্কহেডের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে গেছে। এছাড়া ৫০ লিটার ডিজেল, সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, গ্যাস সিলিন্ডার, তিনটি মোবাইল ফোন, ৬০ বস্তা সিমেন্ট ও নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে।
গত সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে নিয়ে উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের ইসলামপুর-গাজীপুর সংলগ্ন হাওরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।
জে আই ইমপ্যাক্ট লিমিটেডের সিনিয়র সেলস এক্সিকিউটিভ কর্মকর্তা বিএম কামরুজ্জামান জানান, সোমবার সকালে সিলেটের ছাতক সুপারক্রিট সিমেন্ট কারখানা থেকে দুই হাজার বস্তা সিমেন্ট নিয়ে একটি বাল্কহেড ইটনা বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে জয়সিদ্ধি বাজারের এক ব্যবসায়ীর জরুরি অনুরোধে ৫০০ বস্তা সিমেন্ট আগে পৌঁছে দিতে বাল্কহেডটির গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়। পথে এলংজুরী ইউনিয়নের ইসলামপুর-গাজীপুর এলাকার সামনে হাওরে পানি কম থাকায় বাল্কহেডটি একটি চরে আটকে যায়। লোকবল সংকটের কারণে রাতের মধ্যেই সেটি সরানো সম্ভব হয়নি, ফলে মাঝি, ইঞ্জিনচালক ও অন্যরা বাল্কহেডেই রাতযাপন করেন।
বাল্কহেডের মাঝি সৈয়দুল ইসলাম বলেন, "রাত ২টার দিকে ৮ থেকে ১০ জনের একটি ডাকাত দল বাল্কহেডে উঠে মাঝি, ইঞ্জিনচালকসহ অন্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে মালামাল ও নগদ টাকা দাবি করে। পরে তারা বাল্কহেডের একটি ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়। এ ছাড়া ৫০ লিটার ডিজেল, একটি সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, গ্যাস সিলিন্ডার, তিনটি মোবাইল ফোন, ৬০ বস্তা সিমেন্ট এবং নগদ ১০ হাজার টাকা লুট করে।"
ইঞ্জিন নিয়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, "ডাকাতদের টার্গেট অনুযায়ী নগদ টাকা বা মূল্যবান মালামাল না পাওয়ায় তারা বাল্কহেডের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যায়।"
এই ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে জয়সিদ্ধি বাজারের ব্যবসায়ী মিয়া হোসেন বলেন, "নৌকা-লঞ্চে ডাকাতির কথা অনেক শুনেছি। কিন্তু এভাবে বাল্কহেডের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আগে কখনো দেখিনি-শুনিনি।"
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ খান জানান, "মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে একের পর এক নৌ-ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি মাসেই লাশবাহী নৌকা, গরু ব্যবসায়ী ও পর্যটকবাহী ট্রলারে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত ৭ জুলাই করিমগঞ্জে শিশুর মরদেহবাহী নৌকায় এবং পরের দিন মিঠামইনে গরু ব্যবসায়ীদের সাড়ে ৪ লাখ টাকা লুটের ঘটনা ঘটে। এছাড়া জুনের শুরুতে হাসানপুর এলাকায় পর্যটকবাহী ট্রলারেও হামলা চালায় ডাকাত দল। একের পর এক এমন ঘটনায় হাওরের নৌপথে নিরাপত্তাহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে।