হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রায় হামলা, কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচির এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি এবং পুলিশি বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে এনসিপির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তি। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের দাবিও জানানো হয় কর্মসূচিতে।
বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পায়রা চত্বর থেকে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি টিএসসি থেকে ভিসি চত্বর হয়ে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ছিলেন। ভিডিও দেখে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তাঁরা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার বলেন, ‘তারেক রহমান নির্বাচনের আগে বলেছিলেন, “আই হ্যাভ এ প্ল্যান, উই হ্যাভ এ প্ল্যান।” কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, নির্বাচনের পরে এই পাঁচ মাসে তারেক রহমান যে প্ল্যানগুলো জনগণকে দেখাচ্ছেন, তার মধ্যে প্রধানতম হচ্ছে কীভাবে মানুষকে বাক্রুদ্ধ করা যায়। আমরা দেখেছি, কীভাবে সভা-সমাবেশে হামলা করা যায়।’
হবিগঞ্জের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আবু বাকের বলেন, রাজনৈতিকভাবে এনসিপির নেতাদের দমিয়ে রাখতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তাঁদের সামনে ট্রাক দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে বালুর ট্রাক সরানো না গেলেও এনসিপি খালি ট্রাক সরাতে সক্ষম হয়েছে—এমন দাবি করেন তিনি।
ছাত্রদলকে উদ্দেশ করে আবু বাকের বলেন, ‘আমরা ছাত্রদলকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ছাত্রদলের রাকিব ভাইকে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আপনি যেভাবে সাদাসিধার ভান ধরেন, আপনার এই সাদাসিধার ভান ছাড়েন। আপনার যে সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহিনী ছাত্রদল ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে, সারা দেশে সন্ত্রাস করছে, তাদের থামান। অন্যথায় আপনাদের প্রত্যেককে দেখে নেওয়া হবে।’
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দেখতে পেলাম তারেক রহমানের হাসিনা হওয়ার যে প্রবণতা, তার আরেকটা রূপ আজকে আমরা দেখলাম। আমরা দেখলাম, ভিন্নমত দমানোর জন্য হাসিনার মতো কায়দা করে আজকে ট্রাক দিয়ে তারা এনসিপির সমাবেশ, এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করেছে।’
তাহমিদ আল মুদ্দাসসির আরও বলেন, সরকার জনগণের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শিশুদের নিয়ে ‘স্টান্টবাজি’ চলছে। আবার আরেক দিকে তাঁর দলের সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাচ্চাদের এই দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কলেজের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।