হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালটি চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সক্ষমতা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বিয়ন্ড উইথ বোয়িং: পাওয়ারিং দ্য নেক্সট চ্যাপ্টার অব এভিয়েশন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা মোকাবিলায় ইউএস-বাংলার ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ সংযোজন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করছে, যা দেশের বিমান চলাচল খাতকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মনে করেন।
ইউএস-বাংলার সাফল্য প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "একটি অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্স হিসেবে যাত্রা শুরু করে ইউএস-বাংলা আজ দেশের অন্যতম শীর্ষ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে পরিণত হয়েছে। নিরাপত্তা ও মানসম্মত সেবার প্রতি তাদের অঙ্গীকারই এই সাফল্যের মূল ভিত্তি।"
অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, "কোনো বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সকে এত বড় ও দূরদর্শী বিনিয়োগ করতে দেখে তিনি গর্বিত। এই উদ্যোগ দেশের অর্থনীতির প্রতি আস্থা এবং বিমান চলাচল খাতের সম্ভাবনারই প্রতিফলন।"
তিনি আরও জানান, এই বিনিয়োগের ফলে প্রায় ৪ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি পাইলট, প্রকৌশলী, কেবিন ক্রু, টেকনিশিয়ান ও এভিয়েশন ব্যবস্থাপকসহ দক্ষ জনবল তৈরিতে ইউএস-বাংলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে দেশের আন্তর্জাতিক আকাশপথে প্রায় ৭০ শতাংশ যাত্রী বিদেশি এয়ারলাইন্স বহন করছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে দেশীয় এয়ারলাইন্সের সক্ষমতা বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ দেশে রাখা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, "ইউএস-বাংলার লক্ষ্য শুধু একটি সফল এয়ারলাইন্স পরিচালনা করা নয়, বরং এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক এভিয়েশন গ্রুপে রূপান্তর করা।"
নতুন বহরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের পাশাপাশি কার্গো, এমআরও (মেইনটেন্যান্স, রিপেয়ার অ্যান্ড ওভারহল), ফ্লাইট ক্যাটারিং, এভিয়েশন প্রশিক্ষণ এবং দক্ষ জনবল গড়ে তোলার সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি। এছাড়া চট্টগ্রাম ও সিলেটকে আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ স্থায়ীভাবে মোতায়েন করে এসব অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনার কথা জানান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ইউএস-বাংলা নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট ও এয়ারক্রাফট প্রকৌশলী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক মানের একটি এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এবং দেশে আধুনিক ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার প্রতিষ্ঠার কাজও এগিয়ে চলছে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ভ্রমণ ও পর্যটন খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।