মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে হবিগঞ্জে প্রবেশের প্রচেষ্টায় আবারও বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে এগোলেও বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছাতেই তাঁদের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে সাতটা পর্যন্ত এনসিপি নেতারা সেখানেই অবস্থান করছিলেন।
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে বসিয়ে পথ অবরুদ্ধ করা হয়েছে। হালকা বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় অবস্থান করে এনসিপি নেতারা ‘বাহ্ পুলিশ চমৎকার, স্বৈরাচারের তাঁবেদার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন। বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য।
এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। ওই গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, হবিগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রাকালে পুলিশ তাঁদের সামনে এগোতে নিরুৎসাহিত করে। ফলে নেতা–কর্মীদের গাড়িবহর চা–কন্যা ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান নিতে বাধ্য হয়। ব্যারিকেডের সামনে সারজিস আলমকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকার, তারা এখন সরকারকে দিয়ে প্রশাসনকে আবার আওয়ামী লীগের মতো ব্যবহার করবে। ওয়ান ফোরটিফোরের (১৪৪ ধারা) ধারেকাছেও যাইনি, আমাদেরকে আটকায়ে দিসে।’
উল্লেখ্য, বেলা ৩টায় হবিগঞ্জ পৌর শহরে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। পরবর্তীতে সেখানে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেয় এনসিপি।
এই বিষয়ে পুলিশের তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।