সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা ছাড়া ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো কিংবা হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ আজ বুধবার রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে হাইকোর্টে সংশ্লিষ্ট রুলটি চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামিন পাওয়ার পর এজাহারে নাম নেই—এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হেফাজতে বা কারাগারে থাকা ব্যক্তি এবং তাদের পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক রিট দায়ের করা হয়েছিল। ওই রিটগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করেন।

হাইকোর্টের ওই আদেশে জানতে চাওয়া হয়েছিল, "রুলে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার উদ্দেশ্যে বারবার এবং মিথ্যা প্রকৃতির মামলায় আবেদনকারীকে জড়ানোর কার্যক্রম কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না"। এছাড়া "সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখাতে, গ্রেপ্তার ও হয়রানি না করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না"—তা জানতে চাওয়া হয় এবং একই সঙ্গে আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের এই পৃথক আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) দাখিল করে। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করে এবং লিভ টু আপিল নিষ্পত্তি করে আদেশ প্রদান করেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মেহেদি হাসান উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, রিট আবেদনকারীপক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুস্তাফিজুর রহমান খান এবং আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ শুনানিতে অংশ নেন।

পরবর্তীতে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, "হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ব্যক্তির নাম এজাহারে না থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্তপ্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ততা পান, তাহলে তিনি তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করতে পারবেন।"