দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে বগুড়ায় একটি পাইলট ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে সরকার। এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

বুধবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িং থেকে ২১টি উড়োজাহাজ ভাড়ার চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে সমন্বিত এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং বগুড়ায় নতুন পাইলট ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ২১টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ সংযোজন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসও ১৪টি নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করছে। তিনি বলেন, "দেশীয় এয়ারলাইনসগুলো বহরে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করছে। সেই সঙ্গে সরকারের নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলোর বিকাশকে আরও গতিশীল করবে।"

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানান, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হওয়ার পর এশিয়া-প্যাসিফিক, মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে যাত্রী সেবা দেওয়ার এবং তাঁদের চলাচলের সুবিধা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও বাড়বে। বাংলাদেশের লক্ষ্য হলো এশীয় এভিয়েশন হাবের জন্য একটি বৈশ্বিক প্রবেশদ্বার হয়ে ওঠা।

বেসরকারি খাতের এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালনগত চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, "বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রভৃতি কারণ বেসরকারি খাতের এভিয়েশন উদ্যোগগুলোর পরিচালন ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেয়। জ্বালানিসংকট জেট ফুয়েলের দাম বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। আবার বেসরকারি খাতের এভিয়েশন ব্যবসাকে সহায়তা করার জন্য একটি অনুকূল আমলাতান্ত্রিক কাঠামো থাকা প্রয়োজন। শিল্পের অংশীজনেরা কর ছাড়ের জন্য দাবি জানিয়েছেন। আমরা দেখব কীভাবে আর্থিক সহায়তা বা ছাড় দেওয়া যায়।"

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, "২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বোয়িং উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার আজকের এই ঘোষণাটি শুধু ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের জন্যই নয়, বরং আমাদের দেশের এভিয়েশন শিল্পের জন্যও একটি যুগান্তকারী অর্জন।"

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএস-বাংলা গ্রুপ ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট (বিক্রয়) পল রেগি। অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদসহ বিভিন্ন খাতের শীর্ষ নির্বাহী ও অংশীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।